kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার

‘ফেসবুক-ফাঁদে’ অপহরণ ১০ লাখ টাকা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ফেসবুক-ফাঁদে’ অপহরণ ১০ লাখ টাকা দাবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পরিচয়ের সূত্র ধরে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। এরপর কৌশলে ফাঁদ পেতে অপহরণ করা হয় যুবক রায়হানকে। পরে এক লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তচক্র। শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রায়হানকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি মঞ্জুরুল কবির জানান, গতকাল সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় রায়হানকে। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় সাতজনের সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে। তাঁরা হলেন মাদারীপুরের আজিজুল হাকিম (৪০) ও  লিটন মোল্লা (২৬), নড়াইলের কাজল বেগম (২৬), ভোলার নজরুল ইসলাম নবু (৪২) ও পিরোজপুরের নুরু মিয়া ওরফে নুরুল ইসলাম মোল্লা (৬২)।  রায়হানের গাড়িচালক বাহারসহ বাকি দুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

অপহরণকারীরা রায়হানের হাত-চোখ-মুখ বেঁধে ছয় দিন আটকে রেখে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেছে। পরিবারের সদস্যদের রায়হানকে মারধর ও তাঁর চিৎকারের শব্দ শুনিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে জানায়, না হলে তাঁকে খুন করা হবে।

মঞ্জুরুল আরো বলেন, চক্রের অন্যতম সদস্য রায়হানের গাড়িচালক বাহার। রায়হান বিদেশে যাওয়ার জন্য ছয় লাখ টাকা রেখেছিলেন, যা জানা ছিল বাহারের। রায়হানকে একদিন ফেসবুকে নিজের বান্ধবী কাজলের ছবি দেখান তিনি। এরপর ফেসবুকে ও মোবাইল ফোনে কথা হয় রায়হান ও কাজলের। একপর্যায়ে গত ১২ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান থেকে কাজলের গাড়িতে ওঠেন রায়হান ও বাহার। এরপর আমিনবাজারের একটি বাসায় নিয়ে রায়হানকে জিম্মি করে তাঁর ফোন থেকেই পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। প্রথম পর্যায়ে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় কথামতো আরো চার লাখ টাকার অপেক্ষায় থাকে দুর্বৃত্তরা। এ পর্যায়ে র‌্যাবে অভিযোগ করা হয়।

১০ বছর ধরে পছন্দমতো লোকজনকে টার্গেট করে মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করত চক্রটি। এরপর বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তারা আগেও এ ধরনের একাধিক অপহরণ করেছে বলে জানায় র‌্যাব।

মন্তব্য