kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা

মামলায় সাক্ষ্য দিলেন তিন বাড়িওয়ালা

আদালত প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলায় সাক্ষ্য দিলেন তিন বাড়িওয়ালা

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় তিন বাড়িওয়ালা সাক্ষ্য দিয়েছেন। জঙ্গিরা ছদ্মনামে তাঁদের বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। হামলার পর পুলিশের মাধ্যমে ওই ভাড়াটেদের আসল পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন বলে তাঁরা আদালতকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে এই মামলায় ৩১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে গতকাল বুধবার সাক্ষীরা তাঁদের জবানবন্দি দেন। বিচারক মো. মজিবুর রহমান তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীদের করা জেরা লিপিবদ্ধ করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালে বাড়িওয়ালা আনোয়ারুল আজিম, জাহাজ বাড়ির মালিক মমতাজ পারভীন ও রিনা খান জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁদের জেরা করেন আসামিদের আইনজীবীরা।

আনোয়ারুল তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি এম এ হাসান পাঁচজন থাকবে জানিয়ে আমার মিরপুর মধ্য পাইকপাড়া (বউবাজার) ১৫৯ নম্বর বাসা ভাড়া নেয়। হাসানের সঙ্গে ইশতিয়াক আহমেদ, সুনীল রায়, রুবেল হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় একজন ওঠে। তেমন জিনিসপত্র ছিল না। যুবক বয়সের কিছু লোকজন মাঝে-মধ্যে আসত। অনেক সময় থাকত আবার চলে যেত। হাসানকে জিজ্ঞাসা করলে তাদের কেউ একসঙ্গে লেখাপড়া করে আবার কখনো আত্মীয় পরিচয় দিত। এভাবে তারা প্রায় পাঁচ মাস থাকে। পরে বাসা ছেড়ে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পর হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা হয়। পাঁচজন জঙ্গিও নিহত হয়। মিডিয়া ও পুলিশের দেখানো ছবি দেখে চিনতে পারি আমার বাসায় যারা ভাড়া থাকত, যারা আসা-যাওয়া করত তাদের মধ্যে ওই নিহত জঙ্গির কেউ কেউ ছিল। পুলিশের মাধ্যমে পরে জানতে পারি, জঙ্গিরা আমার বাসার চতুর্থ তলায় ভাড়া থেকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিত। জঙ্গিরা ছদ্মনাম (ভুয়া নাম-ঠিকানা) ব্যবহার করে আমার বাসা ভাড়া নিয়েছিল। হাসানের প্রকৃত নাম রাকিবুল হাসান রিগ্যান বলেও জানতে পারি।’

মমতাজ বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাত ১২টার পর আমার বাসার পঞ্চম তলায় পুলিশ অভিযান চালায়। পঞ্চম তলায় বিভিন্ন ভার্সিটির ছেলেরা থাকত। আমি শুনেছি ওই অভিযানে ১১ জন ছাত্র মারা গেছে। রিগ্যান নামে একজন পাঁচতলা থেকে লাফ দেয়। আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর একদিন বাসায় এসে পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করে, এই বাড়ির মালিক কে? তখন আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবে বলে থানায় নিয়ে যায়। আমি অসুস্থ বলে আমার ওষুধের বাক্সও নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসা করে ছেড়ে দেবে বলে নিয়ে গেলেও আমাকে চার-সাড়ে চার মাস জেলে রাখা হয়।’

রিনা বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি চার-পাঁচজন ছাত্র আমার বাসায় ভাড়া ওঠে। তারা বাইরে খুব একটা বের হতো না। একদিন আমি তাদের বাসায় গিয়ে বলি, তোমরা তোমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আর ছবি দেবে। আমি রাত ১১টার দিকে এসে দেখব তোমরা কী কর। দুই দিন পর গিয়ে দেখি ওরা চলে গেছে। এরপর পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার বাসায় যারা ভাড়া ছিল তারা গুলশানে হামলার সঙ্গে জড়িত।’

সাক্ষ্যগ্রহণের আগে কারাগারে থাকা মামলার আট আসামি আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান সাগর, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, আবদুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদকে এজলাসে হাজির করা হয়।

মন্তব্য