kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

তুরাগে অভিযান অব্যাহত উচ্ছেদ ৭০ স্থাপনা

শীতলক্ষ্যা পারে উচ্ছেদ আরো অর্ধশত স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নদীতীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানের উনত্রিশতম দিবসে তুরাগ তীরে ভাঙা পড়েছে আবাসিক ভবনসহ ৭০টি স্থাপনা। এ সময় নিলামে বিক্রি হয়েছে ভেঙে দেওয়া বাড়িঘরের এক কোটি ২৮ লাখ টাকার মালামাল। অন্যান্য দিনের মতো গতকাল বুধবার উচ্ছেদের আওতায় বাণিজ্যিক ভবন ও কারখানা পড়েনি। তবে নির্মাণসামগ্রীর গদিঘর ছিল বেশ কয়েকটি। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন এলাকার শীতলক্ষ্যায় উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা।

গতকাল আশুলিয়া বেড়িবাঁধের ভাটুলিয়া মৌজা ও পরান মণ্ডলেরটেকে উচ্ছেদ অভিযান চলে। এলাকাটি তুরাগ থানার অন্তর্গত হলেও প্রায় টঙ্গীর কাছাকাছি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা পূর্বঘোষিত স্থান থেকে সকালেই এক্সকাভেটর নিয়ে পরিষ্কার করতে থাকেন নদীতীর। কয়েক স্থানে রাস্তা কেটে মিশিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। একে একে উচ্ছেদ হয় বালুর গদি, ভবনসহ অস্থায়ী ব্যবসাকেন্দ্র। সব কিছু গুঁড়িয়ে দিনভর প্রচেষ্টায় সাড়ে চার একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে।

ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনাসহ নদীতীর উদ্ধারে বিআইডাব্লিউটিএ ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। দখলে, দূষণে সংকুচিত হয়ে পড়া তুরাগের আশুলিয়া বেড়িবাঁধের ভাটুলিয়া মৌজা ও পরান মণ্ডলেরটেকে দেখা যায় গাছপালা ঘেরা বাড়ি, যা দখলি জায়গায় নির্মিত বলে স্পষ্ট বোঝা যায়। উচ্ছেদের ইঙ্গিত পেয়ে এসব বাড়ির লোকজন আগেই সটকে পড়েছে এবং সরিয়ে নিয়েছে মালামাল। ক্রেন দিয়ে পথ তৈরি করে যখন বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তখন আশপাশে অনেক মানুষের ভিড় জমে। কিন্তু দখলি সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেনি কেউ।

অভিযানকালে নদীতীরে ভবনের তুলনায় বালু ও পাথরের গদি দেখা গেছে বেশি। এ অবস্থায় মালামাল জব্দ করার পাশাপাশি ছয়টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় বিআইডাব্লিউটিএর সিনিয়র এডি নূর হোসেন স্বপন দিনভর হ্যান্ড মাইক নিয়ে নিলাম পরিচালনা করেন। তীব্র রোদের মধ্যে ছাতা মাথায় হাজির হন নিলামে অংশগ্রহণেচ্ছুরা। তারা বৃত্তাকার দাঁড়িয়ে নিলামের দর হাঁকতে থাকে।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘সরকার ও আদালতের নির্দেশনা নিয়েই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। আপাতত নদীতীর দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। সহসাই ড্রেজিংসহ অন্য কাজে মনোনিবেশ করা হবে। রাজধানীর চারদিক ঘিরে থাকা নদী সচল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে পুনর্দখলসহ কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানায়, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে সর্বমোট ৭০টি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি দোতলা ও ছয়টি এক তলা ভবন। আধাপাকা ৯টি ও টিনশেড ১৩টি ঘর উচ্ছেদ হয়েছে। ভাঙা পড়েছে ১০টি বাউন্ডারি ওয়াল। ২৯টি টিনের ঘর ও বালুর গদি উচ্ছেদ করা হয়। নিলামে বিক্রি হয় এক কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল। গতকালের অভিযানে মোট সাড়ে চার একর তীরভূমি অবমুক্ত হয়েছে।

শীতলক্ষ্যা তীরে তৃতীয় দিনে উচ্ছেদ অর্ধশত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। শীতলক্ষ্যা নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে তৃতীয় দিনের মতো বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে এ অভিযান চালানো হয়। দ্বিতীয় দিনের অভিযানে ছয়টি পাকা বহুতল ভবন, পাঁচটি আধাপাকা বসতবাড়িসহ প্রায় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্তিময়ী জামানের নেতৃত্বে এবং বিআইডাব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী ও উপপরিচালক শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বিআইডাব্লিউটিএর জাহাজ অগ্রণী, একটি টাগ বোট, পুলিশ, আনসারসহ বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিআইডাব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ ও বিআইডাব্লিউটিএর যৌথ সমন্বয়ে নদীর সীমানাসংক্রান্ত পুনঃজরিপকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সেই আলোকে পুনরায় সীমানা পিলার স্থাপন করতে নদীর জায়গা দখলমুক্ত করা হচ্ছে। নদীর সীমানার দেড় শ ফুট পর্যন্ত এলাকায় উচ্ছেদ চলবে। তিনি জানান, শীতলক্ষ্যার তারাব সুলতানা কামাল সেতু থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত উভয় তীরে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

তিনি আরো জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর পাঁচ হাজার ১১টি আপত্তিকৃত সীমানা পিলার পুনঃস্থাপনে এরই মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন সীমানা পিলার ৪০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট হবে। এ ছাড়া সরকার ঢাকার চারপাশের ২১০ কিলোমিটার নদীপথ রক্ষায় ওয়াকওয়ে বনায়ন করছে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে  ২৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে। আরো ১৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে।

মন্তব্য