kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রাজউকের টেন্ডার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রাজউকের টেন্ডার আহ্বান

রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে রাজউক। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে নির্মিত বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এতে তিন মাসের মধ্যে ভবন ভেঙে মালামাল অপসারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। দরপত্রে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উপযুক্ত কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে ভবন খালি করতে আরো এক বছর সময় চেয়ে বিজিএমইএর করা আবেদন তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। গতকাল বুধবার বিজিএমইএর সভাপতি বরাবর পাঠানো নোটিশে ওই আবেদন প্রত্যাহার না করলে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

দুটি বেইসমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট বিজিএমইএ কমপ্লেক্স ভবনটি ভাঙার জন্য গতকাল একাধিক জাতীয় দৈনিকে দরপত্র আহ্বান করেছে রাজউক। ভবনটি ভাঙার পর ব্যবহারযোগ্য মালামাল ক্রয়ে আগ্রহী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে কোটেশন জমা দিতে বলা হয়েছে। দরপত্রের শর্ত অনুসারে কোটেশন পদ্ধতিতে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান এই ভবন ভাঙার ব্যাপারে কোনো অর্থ পাবে না; যে ভাঙবে সে-ই সমুদয় মালামাল পাবে। ভবন ভাঙার সময় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়িত্বও ওই প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।

গতকাল সকালে সচিবালয়ে বিজিএমইএ ভবন বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জানান, ভবনটি ভাঙার ব্যাপারে প্রথমে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যদি না থাকে, তাহলে বাইরের প্রযুক্তিসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান নিয়ে আসা হবে। কোনোভাবেই মানুষের জীবন ও মালের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে এই ভবন ভাঙা হবে না।

মন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে আমরা সেটিকে ভেঙে ফেলার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এরই মধ্যে ভবনটিকে আমাদের দখলে নিয়েছি। ভবনের সেবামূলক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, ২৪ এপ্রিলের মধ্যে টেন্ডার পেয়ে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে কোন সংস্থা উপযুক্ত। উপযুক্ত সংস্থা না পাওয়া গেলে আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির ব্যবহার করে রাজউকের পক্ষ থেকে ভবনটি উচ্ছেদের জন্য যে প্রক্রিয়া দরকার সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এদিকে বিজিএমইএর সভাপতির কাছে পাঠানো নোটিশ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, গত বছরের ২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অঙ্গীকারনামা দিয়ে শেষবারের মতো চলতি মাসের ১২ তারিখ (১২ এপ্রিল) বিজিএমইএ ভবন খালি ও ভাঙার এক বছরের সময় বাড়িয়ে নেয়। ওই অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছিল, এই সময়ের পর সময় বাড়াতে আর কোনো আবেদন করবে না বিজিএমইএ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, আরো এক বছর সময় চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে। এটি আপিল বিভাগের গত বছরের ২ এপ্রিলের সিদ্ধান্তের লঙ্ঘন।

মন্তব্য