kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মালিকের দুই ছেলের স্বীকারোক্তি

অবৈধ রাসায়নিক গুদাম ছিল ওয়াহিদ ম্যানশনে

চকবাজারের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ রাসায়নিক গুদাম ছিল ওয়াহিদ ম্যানশনে

পুরনো ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ম্যানশনে অবৈধ রাসায়নিক গুদাম ছিল। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে উল্লিখিত ভবন মালিকের দুই ছেল সোহেল ওরফে শহীদ ও হাসান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান।

গতকাল তাঁদের দুজনকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদুল ইসলাম। একই সঙ্গে দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করার আবেদন করা হয়। মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী ও সাইদুজ্জামান শরীফ পৃথকভাবে তাঁদের খাসকামরায় শহীদ ও হাসানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৮ এপ্রিল শহীদ ও হাসানকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে ২ এপ্রিল আসামি দুই ভাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

রিমান্ডে দুজনই তাঁদের বাড়িতে রাসায়নিক গুদাম ছিল বলে স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তবে ওই গুদাম তাঁদের ছিল না বলেও দাবি করেন তাঁরা। বেআইনিভাবে রাসায়নিক মালামাল রাখার জন্য গুদাম ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা বলেছেন যে মাসে মাসে তাঁরা গুদাম বাবদ ভাড়া নিতেন, তবে সেখানে কী কী পদার্থ রাখা হতো তার খোঁজ রাখতেন না।

দুজনই আদালতকে বলেছেন, রাসায়নিক গুদাম থাকায় আগুন লাগার পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। দুজনই ওই বাড়িতে রাসায়নিক গুদাম যাদের ভাড়া দিয়েছিলেন তাদের নাম বলেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের সুবিধার জন্য নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছে না তদন্ত সংস্থা। তবে  ভাড়াটিয়ারা অবাঙালি (বিহারি) এটা জানা গেছে।

চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যে কয়টি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে তাদের দেওয়া সব তদন্ত প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াহিদ ম্যানশন থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ভবনটিকে আবাসিক বাসা হিসেবে ভাড়া না দিয়ে রাসায়নিক গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবন মালিকরা কাদের কাছে রাসায়নিকের গুদামগুলো ভাড়া দিয়েছিলেন তা অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছিল। এসব তথ্য উদ্ঘাটনে মালিকদের দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্ত সূত্র জানায়, রিমান্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ধার করা গেছে এবং স্বীকারোক্তি দিয়ে সেসব প্রকাশ করেছেন দুই মালিক।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় অনেকে। আগুনের ভয়াবহতায় আশপাশের বাড়িঘর ছাড়া রাস্তায় থাকা গাড়িও পুড়ে যায়। ওয়াহিদ ম্যানশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিপুল রাসায়নিকের মজুদ থাকায় ওই ভবনসহ আশপাশের ভবনে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অবহেলাজনিত নরহত্যার অভিযোগে ওই ঘটনায় নিহত জুম্মনের ছেলে আসিফ বাদী হয়ে ওয়াহিদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলেসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, ভবনটি মূলত আবাসিক। আবাসিক ভবনকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করলে প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা থাকে জানার পরও রাসায়নিক গুদাম হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অসাবধানতা ও আইন পরিপন্থী কাজ করা হয়েছে। এ কারণে বহু লোক হতাহত হয়েছে।

মন্তব্য