kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মাস্টারপ্ল্যানে আসছে ঢাকা সিটির ১৬ ইউনিয়ন

রাতিব রিয়ান   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



মাস্টারপ্ল্যানে আসছে ঢাকা সিটির ১৬ ইউনিয়ন

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে দুই সিটি করপোরেশনে, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে। মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি)। এ জন্য সাবেক এসব ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সরকারি খাসজমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তির খোঁজে মাঠে নামা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এসব এলাকায় সরকারি খাসজমি পেলে সেখানে নানা অবকাঠামো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য স্থাপনা তৈরি করা হবে।

২০১৭ সালের ৯ জুন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে (নিকার) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আটটি করে ইউনিয়ন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৩০ জুলাই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ১৬ ইউনিয়নে মোট ৩৬টি নতুন ওয়ার্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ডিএসসিসিতে যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলো হলো—শ্যামপুর, মাতুয়াইল, ডেমরা, দনিয়া, সারুলিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ও মাণ্ডা। ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলো হলো বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি ইউনিয়ন।

উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া আটটি ইউনিয়ন ভেঙে ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাড্ডা ইউনিয়নকে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, ভাটারাকে ৩৯ ও ৪০, সাঁতারকুলকে ৪১, বেরাইদকে ৪২, ডুমনিকে ৪৩, উত্তরখানকে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬, দক্ষিণখানকে ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০ এবং হরিরামপুরকে ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়।  এ নিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৯টি। নতুন ওয়ার্ডসহ ঢাকার দুই সিটির আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৭০ বর্গকিলোমিটারে।

এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর জনপ্রতিনিধিদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকাগুলো নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংকে (আইডাব্লিউএম)  দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এরই মধ্যে নতুন যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়নের ১৮টি ওয়ার্ডের জনগণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এলাকাগুলোতে সরকারি খাসজমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও সংস্থার সব বিভাগীয় কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলো নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। বৈঠকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোন এলাকায় কী পরিমাণ সরকারের খাসজমি রয়েছে, তার একটা হিসাব তৈরি করার অনুরোধ জানানো হয়।

নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে মাস্টারপ্ল্যান ও স্বল্পমেয়াদি ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডাব্লিউএম) নামে একটি সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পুরো এলাকা সরেজমিনে স্ট্যাডি করে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে ডিএসসিসির কাছে হস্তান্তর করবে। এতে কোথায় আঞ্চলিক কার্যালয়, ওয়ার্ড কার্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, পার্ক, বর্জ্য শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ থাকবে। জানতে চাইলে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নতুন ওয়ার্ডগুলো নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আইডাব্লিউএমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করব।’ ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বলেন, ‘নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তি অনুসন্ধান করার জন্য বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। একটি সংস্থাকে জরিপও পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলো নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পুরো তথ্যগুলো পেয়ে গেলে কোথায় আঞ্চলিক কার্যালয়, হাসপাতাল, লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, খেলার মাঠ, ওয়ার্ড কার্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

অন্যদিকে বিভিন্ন সময় এসব কাজ সম্পন্ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া বলেন, ‘এ জন্য আমাদের চারটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে জরিপ শেষ করে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এলাকার কোথায় কী পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডিএনসিসির ওই কর্মকর্তা জানান, পৃথকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগও ওই এলাকাগুলোতে কাজ করছে। এই বিভাগটি কোথায় কিভাবে বর্জ্য শোধন ও সংগ্রহ বা ব্যবস্থাপনা করা যাবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এ জন্য সংস্থাটি খাসজমির তথ্য সংগ্রহ করে সেখানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করেছে। এ ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে নতুন এলাকাগুলোতে ট্যাক্স কালেকশনের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে রেখেছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসি জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী এলাকাগুলোর ভূমি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ইউনিয়নগুলোতে এখনো ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম চলছে। ইউপির কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পর প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন দেওয়া হবে। ডিএনসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন কবির বলেন, ‘ইউনিয়নগুলোকে ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এসব এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা করছে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ।’ ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, ডিএনসিসি এলাকার আগের আয়তন ছিল ৮২ দশমিক ৬৩৮ বর্গকিলোমিটার। এর সঙ্গে আটটি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় উত্তর সিটির আয়তন ১৯৬ দশমিক ২২৮ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, ‘নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে এসব ইউনিয়নে নাগরিকদের নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করি, খুব শিগগিরই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা