kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ভারতের লোকসভা নির্বাচন

যেখানে অশ্রদ্ধাই ছিল প্রচারের হাতিয়ার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেখানে অশ্রদ্ধাই ছিল প্রচারের হাতিয়ার

ভারতের ম্যারাথন লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। বিশ্বের বৃহত্তম এই গণতন্ত্রের বিস্তৃত নির্বাচনে মূল প্রচারটি হয়েছে ছয় সপ্তাহ ধরে। আর এই পুরো সময়ই প্রায় সব প্রার্থীর মধ্যে যে প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তা হলো প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি অসম্মান বা বিদ্বেষসূচক মন্তব্য। এই কাদা ছোড়াছুড়ির খেলায় খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী নেতা বা পাতি নেতা নোংরা হয়েছেন এবং করেছেন প্রায় সবাই; যার রাশ টানার সচেতন চেষ্টা দেখা গেছে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে।

চোর বনাম শাহজাদা : নির্বাচনী প্রচার খেলার মূল আকর্ষণ এটাই ছিল। নেহরু-গান্ধী পরিবারের এখনকার ছড়িটি রাহুল গান্ধীর হাতে। সোনার চামচ মুখে জন্ম নেওয়া ৪৮ বছর বয়সী এই নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বরাবরই সম্বোধন করে এসেছেন ‘শাহজাদা’ হিসেবে। আর রাহুল প্রচার শুরু করেছিলেন মোদিকে চোর বলার মধ্য দিয়ে। এর পরই আসে তাঁর সেই জনপ্রিয় স্লোগান ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’। যদিও এই স্লোগানকে বুমেরাংয়ের মতো ব্যবহার করেছেন মোদি। প্রযুক্তিপ্রিয় মোদি তাঁর টুইটার অ্যাকান্টের নামকরণই করেন ‘চৌকিদার নরেন্দ্র মোদি’। প্রচার-প্রচারণা, প্রযুক্তির ব্যবহার সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে ভারতকে রক্ষাকারী একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

অতীত নিয়ে টানাহেঁচড়া : এই কাজটিও মোদিই করেছেন। তবে সফল হননি। রাহুল গান্ধীর বাবা রাজীব গান্ধীকে নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন মোদি। ১৯৯১ সালে নিহত এই নেতাকে ‘এক নম্বর দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এর জবাবটি অবশ্য দারুণভাবে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘মোদি ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। এর বদলে আমরা দেব ভালোবাসা। আর আমি মনে করি, ভালোবাসাই জিততে চলেছে (নির্বাচনে)।’

তবে রাহুলের মতো ভদ্রতা বজায় রাখার ধার ধারেননি মোদির বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি ও তাঁর দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহকে অভিহিত করেছেন ‘সেরা গণ্ডমূর্খ’ বলে। এই দুই ব্যক্তিকে মমতা তুলনা করেন মহাভারতের দুই খলনায়ক দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘এক্সপায়ারি বাবু’ ও তুই-তোকারি করতেও বাকি রাখেননি।

উত্তর প্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতীও সরব হন মোদির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘মোদি কী করে কারো স্ত্রী বা মেয়েকে সম্মান করবেন, যেখানে তিনি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য নিজের নিরপরাধ স্ত্রীকে ছেড়ে এসেছেন।’

খাকি অন্তর্বাস : উত্তর প্রদেশের এক দলের নেতা আজম খান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির প্রার্থী ও বলিউড অভিনেত্রী জয়া প্রদা। প্রচারের তোড়ে ভেসে গিয়ে আজম খান বলেন, ‘জয়া প্রদা খাকি অন্তর্বাস পরেন।’ রাষ্ট্রীয় সমাজ সেবক সংঘের পোশাকের রং খাকি। ওই দিকে ইঙ্গিত করেই এ কথা বলেন তিনি। এই নোংরা মন্তব্যের পর নির্বাচন কমিশন তিন দিনের জন্য প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আজম খানকে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে প্রচার থেকে বিরত করা হয় হজরত আলী (রা.)-কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার জন্য। এ ছাড়া কংগ্রেসকে গ্রিন ভাইরাস হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানরা মূলত সবুজ রংটি ব্যবহার করে। এমন একটি টুইট করার পর টুইটার কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হয়ে তাঁর টুইটটি মুছে দেয়।

গান্ধী পরিবারেরই আরেক সদস্য মানেকা গান্ধীর ওপর ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তিনি অবশ্য কংগ্রেসের সঙ্গে নেই। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রচারে গিয়ে মানেকা বলেন, তাঁকে ভোট না দিলে মুসলমানদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হবে না।

হিটলারের আগমন : মহারাষ্ট্র রাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিক রাজ থ্যাকারে। তিনি বলেন, ‘মোদি-অমিত শাহ জুটি যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশকে ১৯৩০-এর দশকের হিটলারের জার্মানি বানিয়ে ফেলবে।’ তবে মোদিকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা এটুকুতেই শেষ হয়নি। তামিলনাড়ুর এক স্থানীয় নেতা ভেইকো একই তুলনা টানেন, ‘মোদি হিটলার আর মুসোলিনির ভাষায় কথা বলছেন কেন?’ আরেক কাঠি এগিয়ে মোদিকে ‘নর্দমার কীট’ হিসেবে তুলনা করেছেন বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা