kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

জলবায়ু পরিবর্তনের কোপ

ঘোড়ামারা দ্বীপবাসীর শেষ ভোট!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘোড়ামারা দ্বীপবাসীর শেষ ভোট!

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ ঘোড়ামারার বাসিন্দারা ভোট দেওয়ার জন্য ট্রলারে করে ভোটকেন্দ্রে যায়। ছবি : এএফপি

ভারতের সপ্তম ও শেষ দফার ভোট নেওয়া হয় গতকাল রবিবার। বাকি ভারতবাসীর মতো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ ঘোড়ামারার বাসিন্দারাও এদিন ভোট দিয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা, এর পরের লোকসভা নির্বাচনে আর ভোট দেওয়ার সুযোগ তারা পাবে না। এর আগেই ডুবে যাবে দ্বীপটি। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে শঙ্কা তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘোড়ামারা। বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ছে। বরফ গলে বাড়ছে পানির স্তর। আর সেই পানিই সাগরের উচ্চতা বাড়িয়ে গ্রাস করতে চলেছে চার হাজার বাসিন্দার দ্বীপটি।

সুন্দরবন ব-দ্বীপের এ অংশের গরিব জেলে গৌরাঙ্গ দলুই। বলছিলেন, ‘যাদের সাধ্য ছিল তারা দ্বীপ ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আমার মতো গরিব মানুষ কোথায় যাবে? আশায় আছি, সরকার হয়তো নতুন জীবন শুরু করতে আমাদের জন্য একটা কিছু করবে।’ ঘোড়ামারার বর্তমান আয়তন মাত্র চার বর্গকিলোমিটার। গত তিন দশকে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নিজের অর্ধেক শরীর হারিয়েছে দ্বীপটি।

দলুই আশা করেন, যে ভোটটি তিনি গতকাল দিয়েছেন তা ফলপ্রদ হবে। যে সরকারই ক্ষমতা গ্রহণ করুক না কেন তাঁদের দ্বীপের জন্য ইতিবাচক ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘এখানে যত দিন সম্ভব আমরা থাকব।’

ঘোড়ামারার নির্বাচনী কর্মকর্তা সাতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রতি বর্ষায় যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে এই দ্বীপটি হয়তো সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ জানে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কোনোভাবেই থামানো সম্ভব নয়। অনেকেই মূল ভূখণ্ডে চলে গেছে।’

এই ব-দ্বীপের চেয়ে আরেকটু ভালো দ্বীপ সাগর। সেখানেই সরে যাচ্ছে বেশির ভাগ বাসিন্দা। অনেকে যাচ্ছে মূল ভূখণ্ডের কাকদ্বীপে। এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রচার চালিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে। গত সপ্তাহেও সেখানে গেছেন তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু ঘোড়ামারার সংকট নিয়ে তিনি বা তাঁর দলের কোনো কর্মী কখনোই কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে দিল্লিভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক তৎপরতা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্লাইমেট ট্রেন্ডের পরিচালক আরতি খোসলা বলেন, ‘প্রধান দুটি দলের একটিও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিতে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও ভারতে যেন বিষয়টি উধাও।’ যদিও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১৫টি নগরীর মধ্যে ভারতের ১৩টি শহরের নাম রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সতিশ চন্দ্র (৭৫) হতাশ হলেও ঘোড়ামারা ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই, ‘আমি এই জায়গাটি ছেড়ে যেতে চাই না। আমার মন ও জীবন এই দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত।’ তবে বৃদ্ধের এই আবেগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেই। ৪১ বছর বয়সী খুশবো বিবি বলছিলেন, ‘সবাই জীবনের নিরাপত্তা চায়। আমাদের সব সময় ভয় লাগে, এই বুঝি সাগর এসে আমাদের গিলে ফেলল। সরকার যদি সহায়তা করে তাহলে আমরা অন্য দ্বীপে সরে যাব।’ তাঁর বিশ্বাস ক্ষমতায় যেই আসুক ভোটের পর তাঁদের ভুলে যাবে না।

সূত্র : এএফপি। 

মন্তব্য