kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বল এখন ইরানের কোর্টে : সৌদি

জিসিসি ও আরব লীগের জরুরি সভা ডেকেছেন সৌদি বাদশাহ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট উত্তেজনা সম্পর্কে সৌদি আরব বলেছে, তারা যুদ্ধ চায় না; কিন্তু হামলা হলে পাল্টা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রঘেঁষা সৌদি আরব এও বলেছে, যুদ্ধ বাধবে কি বাধবে না, সেই বল এখন ইরানের কোর্টে।

এদিকে উত্তেজনা কমাতে ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) ও আরব লীগের জরুরি সভা ডেকেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। আগামী ৩০ মে মক্কায় পৃথক দুটি সভা হতে পারে।

ইরান যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে—এমন অভিযোগ তুলে সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক থেকে নিজেদের অনেক কূটনীতিকও প্রত্যাহার করে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে। এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই উত্তেজনায় গত রবিবার সম্পৃক্ত হয় সৌদি আরবও। ওই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি ট্যাংকসহ চারটি জাহাজে ‘গুপ্ত’ হামলা হয়। এর দুই দিন পর তাদের তেল সরবরাহের বিকল্প একটি পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যারা ইরানপন্থী হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরানের নির্দেশেই এসব হামলা হয়েছে। তবে ইরান অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সৌদি আরব মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ কিংবা রপ্তানি করে। গত মঙ্গলবার যে পাইপলাইনে হামলা হয়েছে, সেটি সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ ইরান একাধিকবার হরমুজ প্রণালি ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল জুবেইর বলেন, ‘সৌদি আরব চায় না যে এই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধ বাধুক। যুদ্ধ এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু এটাও দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, অন্যরা যুদ্ধের পথ বেছে নিলে সৌদি আরব তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

জুবেইর আরো বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই। কিন্তু বল এখন ইরানের কোর্টে। তারা নিজেরাই নিজেদের পরিণতি ঠিক করবে।’

সৌদি আরবের গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

সৌদির মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।’

তেলের ট্যাংকারে ‘গুপ্ত’ হামলার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত অবশ্য কাউকে দায়ী করেনি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এ ছাড়া হামলার দায়ও কেউ স্বীকার করেনি।

এদিকে সৌদি বাদশাহর ডাকা জরুরি সভাকে তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন হুথিদের সর্বোচ্চ নেতা মোহাম্মেদ আলি আল-হুথি। গতকাল টুইটারে তিনি লেখেন, জিসিসি ও কিংবা আরব লীগের দেশগুলো কেবল এটাই ভালো করে জানে যে কিভাবে যুদ্ধ বাধাতে হয়। গতকাল ইরান বলেছে, তারা যুদ্ধ চায় না; কিন্তু যুদ্ধকে তারা ভয়ও পায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফ বলেন, ‘তেহরান যুদ্ধ চায় না। এ ছাড়া ইরানকে মোকাবেলা করার সাহসও কোনো দেশের নেই।’

ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিও একই সুরে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হলো, তারা যুদ্ধকে ভয় পায়, আমরা পাই না।’ সূত্র : রয়টার্স, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা