kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ সমাপ্তির এক দশক

দীর্ঘশ্বাস তামিলদের সরকারে স্বস্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দীর্ঘশ্বাস তামিলদের সরকারে স্বস্তি

শ্রীলঙ্কার জাফনার শহরতলি মুল্লাইভাওককালে যুদ্ধের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসে নিখোঁজের স্মরণে কেঁদে ফেলেন এক তামিল নারী। ছবি : এএফপি

গৃহযুদ্ধ সমাপ্তির ১০ বছর পালন করছে শ্রীলঙ্কার মানুষ। তবে সংখ্যালঘু তামিল জনগোষ্ঠী ও সরকার—এ দুই পক্ষ আলাদাভাবে, আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দিবসটি পালন করে। হাজারো বিধবাসহ তামিল জনগোষ্ঠীর সামনে ‘১৮ মে’ এই প্রশ্নটি হাজির হয় যে তাদের নিখোঁজ স্বজনরা কি বেঁচে আছে, নাকি নেই? এই দিনটিতে গৃহযুদ্ধ শেষ হয়েছে—এমন স্বস্তির নিঃশ্বাস সরকার ফেললেও তা তামিলদের স্পর্শ করে না।

২০০৯ সালের ১৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৭ বছরের গৃহযুদ্ধের ইতি ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। ওই দিন সরকারি সেনাদের বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে প্রাণ হারান তামিল নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ। গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও এখনো প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিখোঁজ। এদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সদস্য রয়েছে। বাকিরা তামিল জনগোষ্ঠীর।

নাগারাজা সুরেশাম্মা (৬৫) নামের এক নারী এখনো নিজের ছেলেকে খুঁজে ফেরেন। ওই সময়কার বিভীষিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন আমরা সবাই এক রাস্তা ধরে পালিয়ে যাই। কিন্তু আমার ছেলে অন্য রাস্তা দিয়ে পালায়। এর পর থেকে ছেলের চেহারা আর দেখিনি।’

নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করেন মারিয়াসুরেশ ইয়াসওয়ারি নামের এক মানবাধিকারকর্মী। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা যদি বেঁচে না থাকে, সেটা অন্তত আমাদের জানানো উচিত। আপনারা কি তাদের হত্যা করেছেন? পুড়িয়ে মেরেছেন? যা করে থাকুন না কেন, আমাদের বলুন।’

অভিযোগ আছে, অভিযানের শেষ মাসে সেনারা তামিল জনগোষ্ঠীর ৪০ হাজার বেসামরিক সদস্যকে হত্যা করেছে। তবে শ্রীলঙ্কার কোনো সরকারই এ অভিযোগ স্বীকার করেনি।

গত ১০ বছরে অবশ্য অনেক গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু সেখানে যেসব দেহাবশেষ মিলেছে, সেগুলো দিয়ে খুব বেশি মানুষের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

তামিলদের বেশির ভাগই ১৮ মে দিনটি ‘গুমোট মৃত্যু দিবস’ হিসেবে দেখে। এমন অভিযোগও আছে, দিবসটি উপলক্ষে তামিলদের অনেক অনুষ্ঠানই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করতে দেয় না।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, শ্রীলঙ্কার নতুন সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গৃহযুদ্ধে কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকলে এর বিচারের আশ্বাসও দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন ঘটেনি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা