kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

দিল্লিতে রাহুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ চন্দ্রবাবুর

বিরোধী নেতাদের জোট গড়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিরোধী নেতাদের জোট গড়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধী মহাজোট গড়ার তৎপরতা শুরু হয়েছিল লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই। এবার তা নিয়ে আরো মরিয়া প্রচেষ্টা শুরু হলো। একদিকে যেমন ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলকে একজোট করতে তৎপরতা তুঙ্গে তুললেন চন্দ্রবাবু নাইডু, অন্যদিকে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসের চেয়েও সমান দূরত্বের নীতি থেকে সরে আসার বার্তা ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। জোটের শরিক হতে বামদের তরফেও মিলেছে একই রকম বার্তা।

জোট নিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে আগেই উদ্যোগী হয়েছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ২৩ মে দিল্লিতে বিরোধীদের নিয়ে বৈঠকের আগেই সাবেক ইউপিএ শরিকদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছিলেন তিনি। এবার কে চন্দ্রশেখর রাও, জগন্মোহন রেড্ডি, নবীন পট্টনায়কদের মতো আঞ্চলিক স্তরের হেভিওয়েট নেতাদেরও বার্তা দিতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিলেন। পাশাপাশি জোটের স্বার্থে মরিয়া চন্দ্রবাবু জানিয়ে দিলেন, নিজের ‘রাজনৈতিক শত্রু’ চন্দ্রশেখরের দিকেও হাত বাড়াতে আপত্তি নেই তাঁর। কংগ্রেস যখন সব আঞ্চলিক দলকে জোট গঠনের তৎপরতা বাড়াচ্ছে, সে সময় অ-বিজেপি ও অ-কংগ্রেসি জোটের জন্য আরো উদ্যোগী হচ্ছেন তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও।

এই আবহেই গতকাল শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু। মূলত ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েই আলোচনা করেন তাঁরা। এরপর তিনি এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের সঙ্গেও দেখা করেন। কংগ্রেসের সঙ্গে কথা হয়েছে জেডিইউ নেতা দেবগৌড়ারও।

মহাজোট গড়তে মুখ্য সূত্রধর হিসেবে উদ্যোগী নাইডু বিএসপি নেত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কথাবার্তা চালাবেন। এদিন দুপুরেই তিনি লখনউ উড়ে গেছেন। সেখানে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপর বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর।

অ-বিজেপি জোটের পক্ষে সুখবর, নবীন পট্টনায়কের দল বিজেডি তাদের ঘোষিত নীতি নিয়ে নমনীয় হয়েছে। এত দিন বিজেপি ও কংগ্রেস—দুই দল থেকেই সমদূরত্বের নীতি নিয়েছিল তারা। তবে ভোট প্রচারে গিয়ে বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে আখ্যা দেওয়ার পর থেকে উৎসাহিত হয়েছে কংগ্রেস। গতকাল বিজেডি নেতা তথা ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক জানিয়েছেন, ওড়িশার স্বার্থ রক্ষার্থে যে দলই কাজ করবে তাকেই সমর্থন করবে তাঁর দল। ২০০০-০৯ পর্যন্ত ওড়িশায় বিজেপির জোটসঙ্গী নবীন পট্টনায়ক জানিয়েছেন, রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার জন্য যে দল রাজি থাকবে, তাদেরই সমর্থন করবে বিজেডি। তাঁর আরো দাবি, জোট গড়ায় বিজেডি বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

চন্দ্রবাবু নাইডুর এই উদ্যোগ ছাড়াও দেশের সব আঞ্চলিক দল নিয়ে অ-বিজেপি ও অ-কংগ্রেসি জোট গঠনে তৎপর হয়েছেন টিআরএস নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও। এরই মধ্যে ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে চন্দ্রশেখরের। তবে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের সঙ্গে চন্দ্রবাবুর তেমন ‘সদ্ভাব’ না থাকলেও জোটের স্বার্থে তাঁর সঙ্গেও কাজ করতে রাজি তিনি।’ সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা