kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মস্কো-পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার সম্পর্কের নানা দিক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেও নানা কারণে ১৯৯০ সালের পর তাতে অবনতি ঘটতে শুরু করে। তবে ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসার পর পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে নিজেদের থমকে যাওয়া সেই সম্পর্ক আবারও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে মস্কো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভ্লাদিভস্তোক শহরে বৈঠক করেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। নিচে পাঠকদের জন্য দুই দেশের সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো।

স্নায়ুযুদ্ধকালীন মিত্র : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোরিয়া উপদ্বীপের উত্তরাংশের নিয়ন্ত্রণ সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং দক্ষিণাংশের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপদ্বীপটির উত্তর দিকের নিয়ন্ত্রণে কিম ইল সাংকে নিয়ে আসে মস্কো। ১৯৪৮ সালে কিম ইল সাংয়ের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ঠিক দুই বছর পরই দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালায় উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চলা এই লড়াইয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নিহত হয়।

স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যখন পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে তখনো মস্কোর কাছ থেকে অস্ত্র ও জ্বালানি সহায়তা পেয়েছে পিয়ংইয়ং। ১৯৬১ সালে কিম ইল সাংয়ের সঙ্গে সামরিক সহায়তা চুক্তি সই করেন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভ। কিম ইল সাং ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে মস্কো সফরে যান। সেই সময় তিনি সেভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাভেচের সঙ্গে দেখা করেন।

সম্পর্কে টানাপোড়েন : ১৯৯০ সালে মিখাইল গর্বাভেচ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সোভিয়েতের সম্পর্ক অবনতি হতে শুরু করে। মিখাইলের ওই সিদ্ধান্তকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করে পিয়ংইয়ং। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলে মস্কোর ক্ষমতায় আসে পশ্চিমাদের পছন্দের সরকার। ১৯৯১ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলিসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সোভিয়েত আমলে স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি বাতিল করে দেন।

সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা শুরু করেন ভ্লাদিমির পুতিন। এরই অংশ হিসেবে ২০০০ সালে পুতিন প্রথমবারের মতো পিয়ংইয়ং সফরে যান। সেই সময় পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার তৎকালীন শীর্ষ নেতা কিম জং ইল দুই দেশের সম্পর্ক আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সম্মত হন।  সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য