kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগেই শ্রীলঙ্কায় হামলা!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীলঙ্কায় ভয়ংকর প্রাণঘাতী হামলার পর দেশটিতে রাজনৈতিক বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দ্বন্দ্বের কারণেই কি এ হামলা ঠেকানো যায়নি—সেই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতির জন্য দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট দায়ী।

গত ১১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার পুলিশপ্রধান আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে একটি সতর্কতা নোটিশ ইস্যু করেন। এতে বলা হয়, ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত (এনটিজে) দেশের প্রসিদ্ধ গির্জাগুলোতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছে। পুলিশপ্রধানের এ নথি নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রাপকের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী কিংবা উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রীর নাম ছিল না। শ্রীলঙ্কার নোংরা রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত এমন অনেক বিশেষজ্ঞও এ বিষয়টিতে অবাক হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজে) শ্রীলঙ্কাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালান কিনান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এর অংশ হিসেবে তিনি পুলিশের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর অনুসারীদের গোয়েন্দা তথ্য না জানানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।’ গত বছর প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। এতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বিক্রমাসিংহে পুনর্বহাল হন। এর পরও সরকারের শীর্ষ এ দুই কর্তাব্যক্তির মধ্যে বিভেদ নিরসন হয়নি।

গত ২১ মার্চ ইস্টার সানডেতে সিরিজ বোমা হামলায় ৩৫৯ জন নিহত হয়। হামলার পরপরই সামরিক বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। শুরুতে এ বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেন সামরিকপ্রধান। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, তাঁরা এ বিষয়ে শুধু প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন। সেই সময় প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা দেশের বাইরে ছিলেন। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বিক্রমাসিংহের সঙ্গে বৈঠকে রাজি হন সামরিক কর্মকর্তারা। সরকারি সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কলম্বোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভসের প্রধান পাইকিয়াসোথি সারাভানামুত্তু বলেন, রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষিত হয়েছে। গত চার মাসে প্রধানমন্ত্রী ও উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কোনো বৈঠক করেনি।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাজ কি শুধু গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, নাকি সন্দেহভাজনদের নিয়ে কাজ করা? অথচ দেশের গৃহযুদ্ধকালে সন্দেহভাজনদের কিংবা জনগণকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির জন্য পুলিশ অপেক্ষায় থাকেনি। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এজেন্সিগুলোর বসে থাকা বা শিথিল হওয়া ঠিক নয়। তাদের উচিত সম্ভাব্য হামলার প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করা।

প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন। আগাম গোয়েন্দা তথ্য কেন বিক্রমাসিংহের কার্যালয়ে পুলিশ পৌঁছায়নি—এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর নির্দেশে এখন এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। চলতি বছর শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ইস্টার সানডেতে বোমা হামলা ইস্যুতে বেশ চাপে রয়েছে দেশটির সরকার। তাত্ক্ষণিকভাবে সরকারের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে ‘পঙ্গু’ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য