kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

জীবন দিয়ে কয়েক শ মানুষের প্রাণ বাঁচালেন রমেশ রাজু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জীবন দিয়ে কয়েক শ মানুষের প্রাণ বাঁচালেন রমেশ রাজু

অন্য রবিবারগুলোর মতোই গির্জায় গিয়েছিলেন রমেশ রাজু। তবে গত রবিবার বাড়তি আকর্ষণ ছিল ইস্টার উৎসব। সবার মতো পরিবার নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন রমেশ। তার আগেই এক হামলাকারীকে ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ গেছে তাঁর। অবশ্য তাঁর এ আত্মদানে রক্ষা পেয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবন। গত রবিবার শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার সময় জায়ান চার্চে এ ঘটনা ঘটে। চার্চটি পূর্ব উপকূলীয় এলাকা বাত্তিকালোয়ায় অবস্থিত।

রমেশের বাড়ির বাইরে একটি সাদা পোস্টার ঝুলছে। পোস্টারের বাঁ পাশে হাস্যোজ্জ্বল এক ব্যক্তির ছবি। ধূসর শার্ট পরিহিত গোঁফওয়ালা এ ব্যক্তিই রমেশ রাজু (৪০)। তাঁর স্ত্রীর নাম ক্রিশহানথিনি। তাঁদের ঘরে রুকশিখা (১৪) ও নিরুবান (১২) নামের দুই সন্তান আছে।

রমেশদের স্ত্রী ক্রিশহানথিনি বলছিলেন, তিনি ওই গির্জার সানডে স্কুলে পড়ান। অন্য দিনগুলোর মতো তিনি শিক্ষাদানে গিয়েছিলেন। তিনি ও তাঁর স্বামী প্রার্থনার জন্য প্রতি সপ্তাহে সন্তানদের নিয়ে গির্জায় যান। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে প্রার্থনা করে থাকেন। তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন তখন সবে ক্লাস শেষ হয়েছিল। কয়েকজন শিশুর সঙ্গে তিনি নাশতা সারছিলেন। খানিক বাদেই ইস্টারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা। গির্জা প্রাঙ্গণেই রমেশ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বড় ব্যাকপ্যাকওয়ালা এক ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছিলেন। আগন্তুক ওই ব্যক্তি ব্যাগটি ঠিকমতো বহন করতে পারছিল না। রমেশের প্রশ্নে আগন্তুক উত্তর দেয়, ‘ব্যাগে ভিডিও ক্যামেরা আছে। এটি দিয়ে প্রার্থনার দৃশ্য ধারণ করতে চাই।’

রমেশের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী বুঝতে পারেন, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। সে কারণে তিনি আগন্তুককে অনুমতি নিয়ে আসতে বলেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করেন রমেশ। আর পরক্ষণেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। আমি দৌড়ে গির্জার মধ্যে ঢুকে পড়ি। সেখানে মোটামুটি সাড়ে ৪০০ প্রার্থনাকারী ছিল। আতঙ্কে সবাই চিৎকার দিচ্ছিল। যে যার মতো নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছিল।’ ঘটনার পরপরই ক্রিশহানথিনি ও তাঁর পরিবার রমেশকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ঘণ্টাখানেক বাদে পাশের একটি হাসপাতালে তাঁর মরদেহ মেলে। ঘটনাস্থলেই রমেশের মৃত্যু হয়েছিল। রমেশের মৃত্যুতে বেঁচে গেছে অনেক প্রাণ। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য