kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

শ্রীলঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ

বাড়ছে বাক্‌স্বাধীনতা হরণের ভয়ও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ছে বাক্‌স্বাধীনতা হরণের ভয়ও

আত্মঘাতী বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কায় অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে গুজব কিংবা অপপ্রচার বন্ধের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রবাহও বন্ধ করে দেওয়া হলো।

শ্রীলঙ্কায় তথ্য-প্রযুক্তির অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নেটব্লকস’ দাবি করেছে, গত রবিবারের হামলার পর ফেসবুক থেকে শুরু করে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল। গত বছর সহিংসতার সময় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক জেনিফার গ্রিজিয়েল বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব সরকারই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ঝুঁকিটা উপলব্ধি করতে পারছে। এ কারণে যেকোনো প্রতিকূল মুহূর্তে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর রাশ টেনে ধরে। এর মাধ্যমে অবশ্য এটাও প্রমাণিত হয় যে এসব যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সরকারের একচেটিয়া কর্তৃত্ব রয়েছে।’

নেটব্লকস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যেকোনো সংকটের সময় দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হলে গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। কেননা সত্যটা জানার উপায় মানুষের কাছে তখন আর থাকে না। আর এই সুযোগে তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।’

শ্রীলঙ্কা সরকার বলেছে, ইস্টার সানডের হামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকবে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘বিরক্তিকর’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর পরিচালক অ্যামি লের। তবে গুজব ঠেকানোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা পরিস্থিতি চাই, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু এটাও ঠিক যে এসব মাধ্যমকে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আরো কাজ করতে হবে।’

ফেসবুক বন্ধের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার ‘সেফটি চেক’ নামের এক সামাজিক প্ল্যাটফর্মও বন্ধ করে দিয়েছে। যেকোনো দুর্যোগের সময় এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কানরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা সরকারের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘ফ্রিডম হাউস’-এর গবেষক অ্যালি ফাংক। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘রবিবারের হামলাটি খুবই ভয়াবহ। এ অবস্থায় সঠিক তথ্যটা জানা এবং প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই হামলার মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও সমালোচনার যোগ্য।’ সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য