kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

শ্রীলঙ্কার মুসলিম জঙ্গিবাদ ছড়ানোর সুযোগ নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীলঙ্কার মুসলিম জঙ্গিবাদ ছড়ানোর সুযোগ নেই

মানুষগুলো দূরের হলেও দুঃখগুলো চেনা। এই কষ্ট, যন্ত্রণা, দহন আর কান্নার অনুভূতির মধ্যে দিয়ে আমরাও গেছি। আজ সেই একই জায়গায় আবারও দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কা। গতকাল নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় শেষ কৃত্যানুষ্ঠানে স্বজনহারা দুই নারীর কান্না। ছবি : এএফপি

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দিন পেরিয়েছে। এর মধ্যে হামলাকারীদের সম্পর্কে অকাট্য কোনো প্রমাণ মেলেনি। এর পরও দেশটির সরকার সন্দেহের তীর ছুড়েছে খুবই স্বল্প পরিচিতি একটি গোষ্ঠী—ন্যাশনাল তাওহিদ জামাতের (এনটিজে) দিকে। আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তায় তারা এ হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যত দূর জানা যায়, এনটিজে কোনো জিহাদি সংগঠন নয়। তবে সম্প্রতি একটি বুদ্ধ ভাস্কর্য ভাঙার জন্য তাদের দায়ী করা হয়। কিন্তু রবিবারের ঘটনায় বৌদ্ধরা লক্ষ্যবস্তু ছিল না। ফলে এনটিজের ওপর দায় চাপিয়ে শ্রীলঙ্কার মুসলমানদের বলির পাঠা বানানো হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছে ২০০৯ সালে। এর পরের এক দশক তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও রবিবারের ঘটনা দেশটির সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অবশ্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দ্বন্দ্বের কারণে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অনেক সময় হোঁচট খেয়েছে। এ দুই নেতার ওপর প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও চীনের সমর্থন আছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েক দিন আগে হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য জানানো হয়েছিল চীন সমর্থিত সিরিসেনাকে। এর পরও দেশটির প্রশাসন হামলা ঠেকাতে কেন ব্যর্থ হলো—সে প্রশ্নই বারবার তুলছেন ভারতঘেঁষা বিক্রামাসিংহে। ফলে রক্তাক্ত ইস্টার সানডে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পথ তৈরি করেছে। তা ছাড়া সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এনটিজেকে ভয়ংকর এ হামলার জন্য দায়ী করার পেছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এসব ঘটনায় ইসলামপন্থী আল-কায়েদা, আইএস, লস্কর-ই-তৈয়বা, বোকো হারাম, তালেবানের মতো সংগঠনের নাম যেমন আছে, তেমনি ক্রাইস্টচার্চের মতো হামলায় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন টারান্টের নাম উঠে এসেছে। যদিও শ্রীলঙ্কার ঘটনাকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলার বদলা হিসেবে অনেক পক্ষই যোগসূত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

অন্যদিকে খ্রিস্টানদের লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে মুসলমানদের হাত থাকতে পারে—শ্রীলঙ্কার সমসাময়িক অবস্থা তেমনটা আভাস দেয় না। দেশটিতে খ্রিস্টান ও মুসলমানরা কখনো পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়নি। তা ছাড়া তাদের মধ্যে ভয়ংকর বৈরি সম্পর্ক আছে—এমন তথ্যও নেই। ঘটনার পরপর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশটির মুসলমানরা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। অবশ্য খ্রিস্টানদের সঙ্গে বৌদ্ধদের একধরনের মনোমালিন্য আছে। লোভ দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগে কখনো কখনো গির্জা আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার সঙ্গে বৌদ্ধদের কোনো যোগসূত্র পায়নি দেশটির সরকার। এসব কারণে এ ঘটনার পেছনে দেশটির বাইরের কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে সেটি যদি ইসলামপন্থী কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন হয়, এর প্রভাব পড়ার আতঙ্কে আছে দেশটির মুসলিমরা। এরই মধ্যে ঘটনার রাতে একটি মসজিদে পেট্রলবোমা মারা হয়। এ ছাড়া দেশের দুই প্রান্তে মুসলমান মালিকের দুটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়।

অবশ্য শ্রীলঙ্কার ভোটের রাজনীতিতে মুসলামনদের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির জনসংখ্যার ৮ শতাংশই মুসলিম। ২০১৫ সালের ভোটে বেশির ভাগ মুসলমান বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় হেরে যান মাহিন্দা রাজাপক্ষে। কয়েক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন থাকায় ইস্টার সানডের ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার কথা নয়। এর পরও আশ্বস্ত হতে পারছে না সেখানকার মুসলমানরা। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, আনন্দবাজার।

 

 

মন্তব্য