kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

হামলার আগে যাজকের মুখোমুখি আত্মঘাতী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৮টা। গির্জার ভেতরে লোকে লোকারণ্য। সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। গির্জার দরজায় ব্যাগ হাতে এক অপরিচিত লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে যাজক তার দিকে এগিয়ে যান। তার নাম ও পরিচয় জানতে চান তিনি। জবাবে লোকটি নিজেকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বলে সে চার্চটি দেখতে এসেছে। যাজক তাকে আরো প্রশ্ন করতে গেলে উপাসনায় দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে অন্য যাজকরা তাঁকে ভেতরে নিয়ে যান। বেদির দিকে কয়েক পা এগোতেই গগনবিদারী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চার্চ। ফাদার পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন, চার্চের দেয়ালজুড়ে রক্ত আর রক্ত এবং মেঝেতে ছিন্নভিন্ন মানুষের আর্তচিৎকার, যাদের বেশির ভাগই শিশু। চার্চের একতলায় রবিবারের ধর্মশিক্ষার ক্লাস সেরে তারা মাত্রই উপাসনায় অংশ নিতে এসেছিল।

শ্রীলঙ্কার বাত্তিকালোয়ার জায়ন চার্চের যাজক ফাদার কুমারান রবিবারের ভয়াবহ বোমা হামলার অভিজ্ঞতা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে বলেন, ‘১২ শিশুসহ ২৮ জন মারা গেছে। দুজনের অবস্থা সঙ্গীন।’

একমাত্র ছেলে ক্লাস এইটের ছাত্র জ্যাকসনকে (১৩) হারিয়ে ট্যাক্সিচালক আরাসারাতনাম ভার্ল (৪১) অনেকটাই নীরব। রবিবারের ধর্মশিক্ষার ক্লাস শেষ করে জ্যাকসন চার্চের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। ‘আমার বড় বোনও মারা গেছে। ছোট দুই বোন ও ভগ্নিপতির অবস্থা আশঙ্কাজনক’, বলেন ভার্ল। হামলায় তিনি তাঁর বন্ধু রমেশকেও হারান। তিনি জানান, রমেশ মৃত্যুর আগে বোমা হামলাকারীর নামধাম জিজ্ঞেস করে। এরপর তাকে ধাক্কা দিয়ে চার্চের বাইরে বের করে দেয়। ঠিক পরমুহূর্তেই হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেয়।

চার্চ থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ক্যালাডিতে বাস করেন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এস বিকাশ (২১)। তিনি বলেন, ‘আমি আগে কখনো বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনিনি। প্রথমে ভেবেছিলাম টায়ার ফাটার শব্দ। যখন বুঝতে পারি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে তখন আমরা ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুল্যান্সের শব্দ অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছি। দেখি চার্চের ভেতর চারদিকে রক্ত আর শরীরের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। শিশুদের রক্তাক্ত বিচ্ছিন্ন লাশ দেখা খুবই বেদনাদায়ক।’ সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

 

মন্তব্য