kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

হামলাস্থলে হতাহতদের রক্তমাখা স্যান্ডেল। ছবি : এএফপি

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় তছনছ হলো খ্রিস্টানদের পবিত্র দিন ইস্টার সানডে। মানবতা ফের হার মানল মানুষের কাছে। শত শত মানুষের প্রাণহানি আর আর্তচিৎকারে ভারী হলো দ্বীপরাষ্ট্রের আকাশ। কয়েক দিন আগেই নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চ হামলায় শোকে বিহ্বল বিশ্ববাসী। সেই দাগ না মুছতেই এই ভয়ংকর নৃশংস হামলা। এমন পরিস্থিতিতে সরব হয়েছেন ধর্মীয় ও বিশ্বনেতারা। শোকের পাশাপাশি তাঁরা জানিয়েছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা।

গত রবিবার শ্রীলঙ্কার আটটি বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৯০ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৩৫ নাগরিক আছে। এ ঘটনাকে নিষ্ঠুর সহিংসতা বলে মন্তব্য করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেছেন, ‘আমি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। প্রার্থনার সময় হামলাগুলো করা হয়েছে, এ ধরনের নিষ্ঠুর সহিংসতার শিকার সবার জন্য আমি সহমর্মিতা জানাতে চাই।’

এর আগে জেরুজালেমের ক্যাথলিক চার্চের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা নিহতদের আত্মার জন্য প্রার্থনা করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে হত্যা ও হুমকির জন্য সন্ত্রাসীদের মধ্যে অনুশোচনা তৈরি হয়।’

ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলার এক মাস পর শ্রীলঙ্কায় হামলার ঘটনাকে ‘বিধ্বংসী’ বলেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা জানায়। ১৫ মার্চ আমাদের মাটিতে হামলার পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা আরো ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। শ্রীলঙ্কায় আমরা বিধ্বংসী হামলা দেখলাম, যখন লোকজন হোটেল ও চার্চে অবস্থান করছিল।’

মিসরের আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ আল-তায়েব বলেন, ‘আমি এটা কল্পনা করতে পারি না যে শান্তিপূর্ণ কোনো উৎসবের দিনকে কোনো মানুষ লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এসব বিকারগ্রস্ত সন্ত্রাসী সব ধর্মের শিক্ষার বিরুদ্ধে যায়।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ টুইটারে লিখেছেন, ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কান উপাসনাকারীদের ওপর হামলায় তিনি ব্যথিত। সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর সঙ্গে কোনো ধর্মের সম্পর্ক নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘হোটেল ও চার্চে লোমহর্ষক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সব জনগণের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কানদের আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমরা সহায়তার জন্য প্রস্তুত আছি।’ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলাকে কখনো বরদাশত করা যায় না। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

দ্বীপরাষ্ট্রের ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে মূল্যায়ন করছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ‘এ ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলায় যেসব খ্রিস্টান ও নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হয়েছে, তাদের জন্য আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়েছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় লোমহর্ষক হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।’

প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘সিরিজ সন্ত্রাসী হামলা’র ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এতে বলা হয়, এ হামলা মানবতার জন্য আরেকটি নির্মম স্মারক। শ্রীলঙ্কার ঘটনাটি ‘ঠাণ্ডা মাথার’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিশনের চিফ জিন ক্লদ জাংকার বলেন, শ্রীলঙ্কার ঘটনাটি ভয়ংকর ও বেদনাদায়ক। আর ইইউ ফরেন পলিসি চিফ ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, এ হামলা শ্রীলঙ্কা ও বিশ্বের জন্য সত্যিকারের একটি বেদনার দিন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে এ ঘৃণ্যকর্মের নিন্দা জানাই।’ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের একটি বিবৃতি টুইটারে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার যে ভয়াবহরূপ দেখা গেল, তা কখনোই জয়ী হবে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন, ‘হোটেল ও চার্চে সন্ত্রাসী হামলা উদ্বেগজনক। নিষ্ঠুর এ ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা আছে।’

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অতীতের মতোই শ্রীলঙ্কার পাশে থাকবে রাশিয়া। আমি আশা করি, ইস্টার সানডেতে এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

নিরপরাধ ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা বলেছেন, ‘সন্ত্রাস মূলোৎপাটনে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য