kalerkantho

মুলায়ম-মায়াবতী এক মঞ্চে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুলায়ম-মায়াবতী এক মঞ্চে

মৈনপুরীর জনসভায় গতকাল এক মঞ্চে মুলায়ম সিং যাদব এবং মায়াবতী। ছবি : আনন্দবাজার

ঐতিহাসিক শত্রুতা ভুলে শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক সভায় এক মঞ্চে দাঁড়ালের উত্তর প্রদেশ রাজনীতির দুই মহারথী মুলায়ম সিংহ যাদব এবং মায়াবতী। আর শুধু এক মঞ্চে দাঁড়ানোই নয়, মৈনপুরীর সভায় মুলায়মকে প্রশংসাতেও ভরিয়ে দিলেন উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি মহাজোটের অন্যতম কাণ্ডারি মায়াবতী। তাঁর নিজের কথাতেই, ‘মুলায়ম সিং যাদব নিম্নবর্গের সত্যিকারের নেতা, মোদির মতো ভুয়া নন।’ অন্যদিকে দলীয় সমর্থকদের মায়াবতীর পা ছুঁয়ে দেখার পরামর্শ দিলেন মুলায়ম। দীর্ঘ ২৫ বছরের শত্রুতা এভাবেই একাকার হয়ে গেল মৈনপুরীতে, মুলায়মের নিজের কেন্দ্রে।

বিজেপিকে আটকাতে ঐতিহাসিক দ্বৈরথ দূরে সরিয়ে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি একজোট হলেও মায়া-মুলায়মকে একসঙ্গে দেখা যাবে কি না, সেই শঙ্কাটা ছিলই। কারণ শুরু থেকেই এই জোটের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন অখিলেশ। যে কারণে এই জোটকে অনেকেই বলছিলেন বুয়া-বাবুয়া (পিসি-ভাইপো) জোট। অন্যদিকে শুরু থেকেই এই জোটের বিরোধী ছিলেন মুলায়ম। এর আগে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টিল তিনটি যৌথ সমাবেশে তাঁকে দেখতে না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে সেই আশঙ্কাটা আরো জোরদার হচ্ছিল। দেওবন্দ, বদগাঁও, আগ্রা—তিনটি জনসভাই স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে শেষমেশ বাতিল করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কা আর দ্বৈরথ দূরে সরিয়ে প্রায় ২৫ বছর পর মায়াবতীর সঙ্গে এক মঞ্চে উঠলেন মুলায়ম।

শুরু থেকেই মায়া-মুলায়মের এই যৌথ সভা ছিল ঐক্যের সুরে বাঁধা। বিজেপিকে হারাতে দলিত-মুসলিম-নিম্নবর্গকে একাট্টা করার রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে মুলায়মের কেন্দ্রে মায়াবতী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো মুলায়ম অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ভুয়া নেতা নন, তিনি হলেন আসল নেতা।’ নিজেদের পুরনো তিক্ততার প্রসঙ্গে টেনে এনে মায়াবতী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে অনেক পাল্টে গিয়েছেন মুলায়মজি। সাধারণ মানুষের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। সমাজবাদী পার্টির শাসনকালে মহিলাদের উন্নতির জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে।’

১৯৯৫ সালে শুরু হয়েছিল মায়া-মুলায়ম শত্রুতার। তখন উত্তর প্রদেশের ক্ষমতায় তাঁদেরই জোট সরকার। দুই বছর সরকারে থাকার পর হঠাৎই সেই জোট ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন মায়াবতী। প্রতিশোধ নিতে সেই সময় যে গেস্টহাউসে ছিলেন মায়াবতী, সেখানে চড়াও হয়েছিল মুলায়ম সমর্থকরা। শারীরিকভাবেও নিগ্রহ করা হয়েছিল তাঁকে। এর পর থেকেই রাজনীতিতে তাঁরা বরাবরের প্রতিপক্ষ। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

মন্তব্য