kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

মুলারের প্রতিবেদন

ট্রাম্পের পিছু ছাড়বে না ডেমোক্র্যাটরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের পিছু ছাড়বে না ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচার-প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে রবার্ট মুলারকে কংগ্রেসে এনে প্রকাশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল কি না, থাকলে ট্রাম্প কিংবা তাঁর দল তাতে সম্পৃক্ত ছিল কি না—সেটাই গত ২২ মাস ধরে তদন্ত করছিলেন মুলার।

গত বৃহস্পতিবার ৪৪৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন মুলার। সেখানে তিনি বলেন, রাশিয়া এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের মধ্যে কোনো যোগসাজশ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তদন্তে ট্রাম্প কোনো হস্তক্ষেপ কিংবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কি না, সে বিষয়ে মুলার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে যদি এই আত্মবিশ্বাস থাকত যে তদন্তে প্রেসিডেন্ট কোনো হস্তক্ষেপ করেননি, তাহলে সোজাসাপ্টা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। বিভিন্ন ঘটনা এবং যুক্তিসংগত নানা কারণে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।’

অনেকেই মনে করেন, মুলার চাইলেই ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে পারেন। তাঁকে অভিযুক্ত করার মতো সব রকমের তথ্য-উপাত্তই ছিল। যেমন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৈতিকস্খলনের অভিযোগ তুলে মুলারকে যেন অপসারণ করা যায়, সে জন্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের এক আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই আইনজীবী সেই আদেশ পালন না করে পদত্যাগ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প প্রচণ্ড বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেছিলেন, ‘হায় ঈশ্বর। খুবই মারাত্মক ব্যাপার। আমার প্রেসিডেন্সি শেষ হয়ে যাবে।’

তদন্তে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেছেন কি না, সে বিষয়ে ১০টি ঘটনা যাচাই-বাছাই করেন মুলার। কিন্তু এসব ঘটনাকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা যায়নি; কারণ হলো, প্রশাসনের সবাই এ ব্যাপারে তাঁর আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের বিরোধীপক্ষ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে মুলারকে কংগ্রেসে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ন্যান্সি পেলোসি এবং চাক শুমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের বিরক্তিকর এক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যিনি মিথ্যার মায়াজাল বুনে যাচ্ছেন।

কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত আরেক ডেমোক্র্যাট নেতা জ্যাকি স্পিয়ার বলেন, ‘রবার্ট মুলার আসলে বলটা আমাদের পায়ে দিয়ে দিয়েছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সমালোচনাও করছেন ডেমোক্র্যাটরা। বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মুলারের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগেই তিনি জনগণকে ভুল বুঝিয়েছেন। বার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তে কিছু পাওয়া যায়নি।

তদন্ত শুরুর পর থেকেই বলা হচ্ছিল যে ট্রাম্পকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে এসে সেই সম্ভাবনা খুব একটা নেই বলে মনে করেন আরেক ডেমোক্র্যাট নেতা স্টেনি হোয়ার। তিনি বলেন, ‘খোলাখুলি বলতে গেলে, নির্বাচনের আর ১৮ মাস সময় আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তখনই ট্রাম্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের উচিত হবে, নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি যতটা সম্ভব দুর্বল করে ফেলা। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য