kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

নারী প্রার্থী দিতে দ্বিধায় প্রধান দলগুলো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী প্রার্থী দিতে দ্বিধায় প্রধান দলগুলো

এবার মথুরা থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন হেমা মালিনী

বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ভারতে নির্বাচন চলছে। প্রায় দেড় মাসের এই নির্বাচনী যজ্ঞে নারী ভোটারদের উপস্থিতি সংখ্যার দিক থেকে জোরদার হলেও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি চোখে পড়ার মতোই দুর্বল। প্রধান দলগুলো নির্বাচনের আগে নারীদের নিরাপত্তা বা আইনসভাগুলোতে তাদের উপস্থিতি নিয়ে নানামুখী প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। নারী ইস্যুগুলো পড়ে থাকে পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির পয়েন্ট বাড়ানোর অপেক্ষায়।

ভারতের ১২টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৯৫টি আসনে গতকাল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৫টি। এর মধ্যে প্রথম দুই দফায় ভোট হয়েছে ১৮৬টি আসনে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী তালিকা থেকে দেখা যায় তারা এই আসনগুলোতে নারী প্রার্থী দিয়েছে মাত্র ১১.৮ শতাংশ। আর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টি দিয়েছে ১২.৮ শতাংশ।

দীর্ঘদিন থেকেই বড় দুই দল পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধি থাকার কথা বললেও বাস্তবিক ক্ষেত্রে ওই সংখ্যক নারীকে মনোনয়নও দেয় না। যদিও ভারতের ইতিহাসে একটা দীর্ঘ সময় নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাসীন ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের একমাত্র নারী এমপি সন্তোষ আহলাওয়াত এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘খুব অল্পসংখ্যক নারীকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নারীদের এ শাস্তি কেন আমি জানি না। হয়তো শুধু নারী হওয়ার কারণেই।’ হিমাচল প্রদেশের মতো উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে কোনো নারী প্রার্থীকে বিজেপি বা কংগ্রেস কোনো দলই মনোনয়ন দেয়নি। রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশে মাত্র ছয়জন নারী প্রার্থী আছেন। অথচ এই দুই রাজ্যের জনসংখ্যা ফ্রান্সের দ্বিগুণ। অন্যদিকে এই দুই রাজ্যে প্রধান দুই দলের পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম দুই দফার ভোটে মাত্র ২০৯ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যেখানে মোট প্রার্থী ছিলেন দুই হাজার ৮৫৬ জন।

বিজেপি ও কংগ্রেসের নারী সদস্যরা মনে করেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় খুব সহজে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে আইন করে এগোতে হবে। ভারতের মোট ভোটার সংখ্যা ৯০ কোটি। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৩ কোটি। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক।

কেরালা রাজ্যে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শাহিদা কামাল বলেন, ‘দল যেসব আসনে হেরে যাবে বলে আশঙ্কা থাকে, সেসব আসনে নারী প্রার্থীদের দেওয়া হয়। কংগ্রেস আমাকে ২০০৯ সালে কাসারগদ আসনে টিকিট দেয়। ওই আসনে এর আগের ২৫ বছরে কংগ্রেসের কোনো প্রার্থী জেতেনি।’

সেই তুলনায় ছোট দলগুলোতে নারীর মূল্যায়ন ভালো হয়। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ১৭টি আসনে নারী প্রার্থী দিয়েছে। রাজ্যে মোট আসন সংখ্যা ৪২টি। পার্শ্ববর্তী ওড়িশা রাজ্যের বিজু জনতা দল মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। সূত্র : রয়টার্স।

মন্তব্য