kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর প্রতি অনাস্থা

নতুন কৌশলগত অস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন কৌশলগত অস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

নতুন একটি ‘কৌশলগত নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র’ (টেকটিক্যাল গাইডেড উইপন) পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া। অস্ত্রটিতে ওয়ারহেড যুক্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের তদারকিতেই এ পরীক্ষা চালানো হয়। এ পরীক্ষা  চালানোর কয়েক ঘণ্টা পরই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই দিন কিম জং-উন চলতি মাসেই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন বলেও মস্কো থেকে জানানো হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এটাই উত্তর কোরিয়ার প্রথম কোনো অস্ত্র পরীক্ষা। গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কোনো চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়া নেতা কিমের মধ্যে এই আলোচনায় হঠাৎ ভেঙে গিয়েছিল। এ অবস্থায় গতকালের উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়টি দুই দেশের উত্তেজনা বাড়াবে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং-উন এই ঘটনাটিকে পিপলস আর্মির লড়াই করার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি তাৎপর্য অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

কেসিএনএ জানায়, এই অস্ত্রের সুবিধা হচ্ছে নির্দেশনামূলক উড্ডয়ন ও শক্তিশালী ওয়ারহেড (রকেট বা মিসাইল নিয়ন্ত্রিত বোমা বা বিস্ফোরক) বোঝাই করার একটি আলাদা পদ্ধতি। তবে অস্ত্রটি আসলে কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ত্রটি মিসাইল জাতীয় হতে পারে।

আলোচনায় পম্পেওকে চায় না পিয়ংইয়ং : অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণসংক্রান্ত আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে প্রত্যাহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। নতুন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষার কথা ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই দাবি উত্থাপন করল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কেসিএনএ জানায়, গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে পম্পেওকে ‘বেপরোয়া ও অপরিপক্ব’ অভিহিত করে বলা হয়, তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে আলোচনায় নিয়োগ করতে হবে। বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাবিষয়ক বিভাগের পরিচালক কোউন জং গুন বলেন, ‘আমি ভীত যে পম্পেও আবারও এই আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে আলোচনা আবারও খারাপ দিকে যাবে এবং আলোচনা আবারও খামখেয়ালি বিষয়ে পরিণত হবে।’ পম্পেওকে নিয়ে এটাই প্রথম কোনো খারাপ মন্তব্য নয় উত্তর কোরিয়ার। এর আগে গত জুলাইয়ে পিয়ংইয়ং বলেছিল, পম্পেও ‘গ্যাংস্টার স্টাইলে’ আলোচনা করতে চায়।

রাশিয়া সফর : এক দিকে অস্ত্র পরীক্ষা, আরেক দিকে পরমাণু আলোচনা থেকে পম্পেওকে অপসারণের দাবির দিনেই রাশিয়া জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া নেতা কিম জং-উন চলতি মাসের শেষের দিকে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। রাজধানী মস্কোতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পুতিনের আমন্ত্রণে কিম এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধ্বে তিনি মস্কো যাচ্ছেন বলে ক্রেমলিন তার ওয়েবসাইটে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য