kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বশিরকে জেলে পাঠাল সেনাবাহিনী

‘বিপ্লব ছিনতাইয়ের’ আশঙ্কায় আন্দোলনকারীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বশিরকে জেলে পাঠাল সেনাবাহিনী

সুদানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে অজ্ঞাত স্থান থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বশিরের পরিবারের একটি সূত্র গতকাল বুধবার এ খবর দিয়েছে। দেশটিতে বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানী খার্তুমে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বশিরকে জেলে পাঠাল সেনা শাসকরা। এর মধ্য দিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানায়, সুদানের তিন দশকের সাবেক শাসক ওমর আল বশিরকে গত মঙ্গলবার শেষদিকে রাজধানী খার্তুমের কোবের জেলে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে অজ্ঞাত স্থানে বন্দি করে রেখেছিল সেনাবাহিনী। উত্তর খার্তুমে অবস্থিত ওই কারাগারের নিকটবর্তী পার্শ্ববর্তী প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারাগারের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টকে কোথায় রাখা হয়েছিল তা কেউই বলতে পারেনি। তবে সামরিক শাসকরা বলে আসছিলেন, তাঁরা বশিরকে নিরাপদ জায়গায়ই রেখেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বশিরের এই গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা গত ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ডিসেম্বরের বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়। তাদের আন্দোলনের মুখেই প্রেসিডেন্ট বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এতে বিক্ষোভকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে উল্লাস প্রকাশ করে। কিন্তু অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই বছরের জন্য ক্ষমতা নেওয়ার কথা সেনাবাহিনী ঘোষণা দিলে ফের বিক্ষোভ ফুঁসে ওঠে তারা। ফলে এখনো খার্তুমে সেনাসদরের সামনে বিক্ষোভ করে আসছে আন্দোলনকারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমা জোট এবং সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সমর্থনে বশিরকে সরিয়ে ক্ষমতা নিয়েছে সুদানি সেনাবাহিনী। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি জোটে সুদানের সেনাবাহিনী রয়েছে। এ ছাড়া সুদানের খনিজ সম্পদে নজর রয়েছে পশ্চিমাদের। ফলে সাধারণ মানুষের আন্দোলন বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গতকাল ওমর আল বশিরকে কারাগারে নেওয়ার পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে প্রতিবাদকারীরা। এর আগে বিক্ষোভকারীরে সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়ে সেনাবাহিনীর। এতে রাষ্ট্রের প্রধান প্রসিকিউটর ওমর আহমেদ মোহামেদকে অপসারণের বিষয়টিও রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, তাদের আন্দোলনের ফসল ছিনতাই করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের একজন ফাদিয়া খালাফ। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘(আন্দোলন চলাকালে) আমরা টিয়ার শেল মোকাবিলা করেছি। আমরা গুলিবিদ্ধ হয়েছি। আমাদের অনেকেই মারা গেছে। এ সবই ঘটেছে আমরা আমাদের কথা বলতে চেয়েছি বলে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন আশঙ্কা করছি আমাদের বিপ্লব চুরি হতে পারে। এ কারণেই আমরা এখানে পড়ে আছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া না পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান নেব।’ সূত্র : এএফপি ও আনাদোলু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা