kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ইভিএম নিয়ে অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে বিরোধী জোট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একের বদলে বিধানসভাপিছু পাঁচটি ভিভিপ্যাটের স্লিপ মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। তাদের দাবি, ইভিএমের সঙ্গে ৫০ শতাংশ ভিভিপ্যাট স্লিপ মিলিয়ে দেখতে হবে। এই দাবি নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে বিরোধীদের সম্মিলিত জোট। রবিবার দিল্লিতে বেশির ভাগ বিরোধী দলের বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি। বিষয়টিতে কমিশন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সিংভি। বিরোধীদের পক্ষে চন্দ্রবাবু নাইডু আবার ইভিএমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাই তুলে দিয়ে ব্যালটে ভোট নেওয়ার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ছেন।

লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ইভিএম নিয়ে সরব ছিল বিরোধীরা। কলকাতায় ইউনাইটেড ইন্ডিয়া শোভাযাত্রায় ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা ইভিএমকে ‘চোর মেশিন’ বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সরব ছিলেন বিরোধী মহাজোটের অন্য নেতা-নেত্রীরাও। এর মধ্যেই বিরোধীদের করা একটি মামলায় গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে একটি নির্দেশিকায় জানিয়ে দেন, দেশের সর্বত্র বিধানসভাপিছু পাঁচটি বুথের ইভিএমের ফল ভিভিপ্যাটের স্লিপ মিলিয়ে দেখতে হবে।

গত ১১ এপ্রিল সারা দেশের সঙ্গে প্রথম দফাতেই অন্ধ্র প্রদেশ সব লোকসভা আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের মোট ১৭৫টি আসনের ভোটও নেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটপর্ব কার্যত মিটে গিয়েছে অন্ধ্র প্রদেশে। কিন্তু ইভিএম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার সঙ্গে দেখা করে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের নেতৃত্বে মূলত এই চন্দ্রবাবু নাইডুই। দিল্লিতে রবিবার বৈঠকে বসেন বিরোধীদের মহাজোটের নেতারা। বৈঠকে ঠিক হয়, আইনি পথেই লড়াই করবে বিরোধীরা। পরে সাংবাদিক বৈঠকে সিংভি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলছে, সব ভিভিপ্যাট মিলিয়ে দেখতে গেলে গণনা শেষ করতে পাঁচ দিনেরও বেশি সময় লাগবে। আমরা কমিশনকে বলেছি, আরো লোক বাড়াতে। তাহলেই আর পাঁচ দিন সময় লাগবে না।’ কমিশনের দিকে অভিযোগের তির ছুড়ে সিংভি আরো বলেন, ‘আমাদের স্বচ্ছতার দাবিকে গুরুত্বই দিচ্ছে না কমিশন। তাই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

তবে চন্দ্রবাবুর দাবি, ইভিএমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাই ত্রুটিপূর্ণ। ইভিএম হ্যাক করা সম্ভব। যেকোনো সময় বিগড়ে যেতে পারে। ফলে ইভিএম তুলে দিয়ে ফের ব্যালটে ভোটগ্রহণের পদ্ধতিই ফিরিয়ে আনা হোক বলেও তাঁর দাবি। সপক্ষে যুক্তি দিতে তুলে ধরেছেন জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ডের মতো দেশের। এই দেশগুলো ত্রুটিপূর্ণ বলে ইভিএম বাতিল করে আবার ব্যালটে ফিরে গিয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য