kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের দাবি

অ্যাসাঞ্জ লন্ডন দূতাবাসকে গুপ্তচরকেন্দ্র বানিয়েছিলেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অ্যাসাঞ্জ লন্ডন দূতাবাসকে গুপ্তচরকেন্দ্র বানিয়েছিলেন

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে ‘গুপ্তচরকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এর মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছেন, যা চলতে দিতে পারে না ইকুয়েডর। এ কারণেই তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আরো দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো দেশের প্রভাব ছিল না।

রবিবার গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট। তবে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী এর আগেই ইকুয়েডরের অভিযোগকে জঘন্য বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক বিষয় যে আমাদের ভূখণ্ড থেকে এবং আমাদের আগের সরকারের কর্তৃপক্ষ ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাসে বসে অন্যান্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অনুমতি ও সহযোগিতা দিয়েছিল। আমরা আমাদের বাড়িকে এভাবে ব্যবহার করতে দিতে পারি না যে একে একটি গুপ্তচরকেন্দ্রে পরিণত করার জন্য এর দরজা খোলা থাকবে। আমাদের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করার ঘোষণা দেয় ইকুয়েডর। পরের দিন বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পুলিশ ডেকে তাদের হাতে অ্যাসাঞ্জকে তুলে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ার কারণেই অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছে।

অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংয়ের সহযোগিতায় ২০১০ সালের মার্চে মার্কিন প্রতিরক্ষা কম্পিউটারের গোপন পাসওয়ার্ড ভেঙে গোপন নথি হাতিয়ে নেন।

২০১০ সালে সুইডেনে একটি যৌন হয়রানির মামলায় লন্ডনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, সুইডেনে তাঁকে পাঠালে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কারণ ওই বছরই যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় আসা অ্যাসাঞ্জকে চায় ওয়াশিংটন।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট মোরেনোর সাক্ষাৎকার প্রকাশের আগে রবিবার সকালে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বলেন, তাঁর মক্কেল সুইডিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, যদি তারা তাঁর বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলাটি পুনরায় চালু করতে চায়। তবে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া তাঁরা প্রতিহত করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়ার বিষয়টিই এ মামলার মূল ইস্যু বলে তিনি স্কাই টেলিভিশনকে বলেন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য