kalerkantho

সুদানে চাপের মুখে সামরিক পরিষদ

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চক্রান্তের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চক্রান্তের অভিযোগ

সুদানের রাজধানী খার্তুমে সামরিক প্রধান কার্যালয়ের বাইরে একটি ট্রেন আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

দুই দিনে দুই শাসকের পতনের পরও স্থিতিশীল হয়নি সুদানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বেসামরিক সরকারের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের জোরালো দাবির মুখে বেশ ‘অস্বস্তিতে’ পড়ে গেছে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদ। যদিও পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শিগগিরই বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চায়।

এদিকে রাজধানী খার্তুমে সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছে, তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগের পরিকল্পনা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে গত বৃহস্পতিবার সুদানের তিন দশকের শাসক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। এরপর দেশ পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ। কিন্তু পরিষদের প্রধান করা হয় জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফকে, যিনি বশিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া বশির ও আউফ—দুজনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা দাবি তোলে, ইবনে আউফকে অপসারণ করতে হবে। তাদের যুক্তি, বশিরের সঙ্গে ইবনে আউফের কোনো পার্থক্য নেই। এ দাবির মুখে পদত্যাগ করেন আউফ এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আল-বুরহান।

এখন আন্দোলনকারীরা দাবি তুলেছে, অবিলম্বে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। নইলে তারা রাজপথ ছাড়বে না।

গতকাল আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, সামরিক বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য যেকোনো সময় বল প্রয়োগ করতে পারে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন সুদানিস প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের (এসপিএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সেনা সদর দপ্তরের সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চক্রান্ত করা হয়েছে। আমরা সুদানের জনগণকে অনুরোধ জানাচ্ছি, তারা যেন রাজপথে নেমে আমাদের বিপ্লবকে রক্ষা করে।’ অনেক আন্দোলনকারী অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা যেসব বেষ্টনী তৈরি করেছিল, রবিবার রাতে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এখনই উপযুক্ত সময়। এই আলোচনায় আন্দোলকারীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ এবং নারী প্রতিনিধিদের অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

গত রবিবার অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদের সদস্যরা। বৈঠকে তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যাতে নিরপেক্ষ একজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে ঐকমত্যে পৌঁছে।

সামরিক পরিষদের সদস্য জেনারেল ইয়াসের আল-আতা বলেন, ‘স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে আমরা একটি বেসামরিক সরকার গঠন করতে চাই।’

এর আগে শনিবার রাতে পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্দোলনকারীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তারা পরিষদের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে মূল দাবি ছিল, অবিলম্বে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য