kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ভারতে ‘প্রকৃত’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মনি দাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য ভোট দিন’—পাটনা রেলস্টেশনের বাইরে গলা তুলে স্লোগান দিচ্ছেন লাল মনি দাস। হতদরিদ্র বিহার রাজ্যের বছর পঁয়তাল্লিশের এই ব্যক্তি প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের কর্মী অথবা সরকারি এজেন্ট নন। সাইকেলের প্যাডেল চেপে চানাচুরের মতো হালকা খাবার ফেরি করে বেড়ান তিনি। তবে দেশ বোঝেন। বোঝেন গণতন্ত্রের মূল বার্তাটি। তিনি অনুভব করেন, ‘মানুষ তার ভোট নষ্ট করছে। হয় তারা ভুল প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছে অথবা ভোটই দিচ্ছে না।’ এই ভুল সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর মনি দাস। তাই ‘সাইকেল জাগ্রুকতা যাত্রা’ (সাইকেল সচতেনতা যাত্রা) শুরু করেছেন তিনি।

প্রতিদিন বিকেলে চানাচুর বিক্রি বাদ দিয়ে মনি লাল লেগে যান জনগণকে সচেতন করার সুমহান দায়িত্বে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে ভোটযজ্ঞ শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার থেকে। চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। প্রায় ৯০ কোটি ভোটার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনের প্রার্থী নির্বাচন করবে। মনি দাসের মূল উদ্বেগ এই আসনগুলোতে যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁদের নিয়েই। তিনি বলেন, ‘ভারতে লোকে ভোট দেয় ব্যক্তি অথবা দল বিবেচনায়। প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় ভোট দেওয়ার কথা কেউ ভাবে না। প্রার্থী সৎ না শয়তায় তা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।’

মনি দাস গণহারে লোকজনের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। শুধু তিনিই নন। এই প্রচেষ্টা তাঁর সাইকেলের মধ্যেও দেখা যায়। পুরো সাইকেল সচেতনতার ব্যানার আর ফেস্টুন দিয়ে ভরা। এ কাজে নিজের পকেট থেকে ১০ হাজার রুপি খরচ করেছেন তিনি। বাচ্চাদের পড়ার খরচের জন্য টাকাটা সরিয়ে রেখেছিলেন। বন্ধু-স্বজনরা তাঁর এই কাজ নিয়ে হাসাহাসি করছে। তারা মনে করে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছেন তিনি। তবে মনি দাসের বিশ্বাস, এই অর্থ প্রকৃতভাবে তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণেই ব্যয় করা হচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র হওয়ার পরও সমালোচকদের মতে, ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নানা ত্রুটিতে বিষাক্ত। এই ত্রুটি দলগুলোর প্রার্থী নির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভোটারদের ঘুষ দেওয়া, সংঘাত-সংঘর্ষ, কারচুপির চেষ্টা পর্যন্ত বিস্তৃত। মনি দাস জানান, প্রার্থীদের প্রকৃত চেহারা ভোটাররা চিনতে পারুক—তাঁর উদ্দেশ্য এটাই। এ লক্ষ্যে প্রার্থীর গুণ যাচাইয়ের একটি তালিকাও তৈরি করেছেন তিনি। ১০ দফার এই তালিকায় বিবেচনা করতে বলা হয়েছে প্রার্থীর অতীত, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কি না, সততা, খরচের প্রবণতা ইত্যাদি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য