kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ইকুয়েডরের সঙ্গে দ্বন্দ্বেই আটক অ্যাসাঞ্জ?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইকুয়েডরের সঙ্গে দ্বন্দ্বেই আটক অ্যাসাঞ্জ?

হঠাৎ করে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইকুয়েডরের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নানা টানাপড়েন। লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে টানা সাত বছর ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গত বৃহস্পতিবার আচমকা তাঁকে গ্রেপ্তার করে লন্ডন পুলিশ। পরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পেয়েই সক্রিয় হয়েছে ব্রিটেনের প্রশাসন। অস্ট্রেলিয়া জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নাগরিক বলে অ্যাসাঞ্জকে আলাদা কেনো খাতির করা হবে না। কিন্তু ইকুয়েডর এভাবে অ্যাসাঞ্জের মাথার ওপর থেকে হাত তুলে নিল কেন?

এই সূত্রেই দাবি, দেশের নয়া প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে গোপন ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। আর সে জন্যই তড়িঘড়ি করে তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করা হলো। এই সিদ্ধান্তের জন্য ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফাল করেয়া তীব্র সমালোচনা করেছেন মোরেনোর। তিনি কাল বলেছিলেন, ‘এই অপরাধ কেউ কোনো দিন ভুলবে না।’

২০১২ সালে অ্যাসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিলেন এই করেয়াই। তখন তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্টের পদে। আর করেয়ার চোখে অ্যাসাঞ্জ ছিলেন ‘নায়ক’, যিনি মার্কিন প্রশাসনের গুপ্ত নথি ফাঁস করার সাহস দেখিয়েছিলেন। মোরেনোকে গত শুক্রবার করেয়া তোপ দেগেছেন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলেই।

২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোরেনো প্রথম থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, অ্যাসাঞ্জকে নিয়ে বাড়াবাড়ি তাঁর পছন্দ নয়। অস্ট্রেলীয় হুইসেলব্লোয়ারকে অনলাইনে রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেন তিনি। ইকুয়েডরের দূতাবাসে স্কেটবোর্ডে চড়ে ঘোরাঘুরি এবং পোষ্য বেড়ালকে (মেয়েদের দেওয়া) পরিষ্কার করানো বন্ধ করতেও বলেছিলেন! এত রাগের আদত কারণ, একটি বেনামি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, মোরেনোর ভাইয়ের বিদেশে কিছু সংস্থা আছে এবং জাতিসংঘের একটি সংস্থায় কাজ করার সময়ে মোরেনো যখন সপরিবার ইউরোপে ছিলেন, তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপনের খরচ জোগাত ওই সংস্থাগুলো। মোরেনোর অভিযোগ, বেনামি ওই ওয়েবসাইটটির পেছনে উইকিলিকসের মদদ ছিল এবং মোরেনোর দাবি, তিনি কোনো দুর্নীতিতে জড়াননি। যদিও ওয়েবসাইটটিতে ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে মোরেনোর পরিবারের সঙ্গে ছবি ছিল। যা নিয়ে মোরেনো বলেছিলেন, অ্যাসাঞ্জ তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং ফোন হ্যাক করেছেন। ইকুয়েডরের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গতকাল শনিবার আলোচনা হয়েছে, লন্ডনে অ্যাসাঞ্জের জীবনযাপন এবং নিরাপত্তার পেছনে ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৬২ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ভ্যালেন্সিয়া বলেছেন, অ্যাসাঞ্জের কাছে এমন একটি মোবাইল ছিল যাতে ইকুয়েডরের দূতাবাসের স্বীকৃতি ছিল না। তাতে ‘প্যানিক’ বোতামও রাখা ছিল, বিপদে পড়লে যাতে তিনি দ্রুত জানাতে পারেন। হোসের কথায়, “অ্যাসাঞ্জ সব সময়েই নিজেকে ‘আক্রান্ত’ বলে দেখানোর চেষ্টা করতেন।” সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য