kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

প্রথম দফার পর চিন্তার ভাঁজ বিজেপি শিবিরে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম দফার পর চিন্তার ভাঁজ বিজেপি শিবিরে

বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় যে ৯১টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে সেই ৯১টি আসনের মধ্যে ২০১৪ সালে বিজেপি ৩২টিতে জিতেছিল। এবারে ভোটের দিন দিল্লিতে বসে বিজেপির এক নেতা বলছিলেন, তাঁরা ৩৬টি আসন পাচ্ছেন এবার। এক দিন পরই বিজেপি শিবিরের ছবি অনেকখানি পাল্টে গেছে। যে ২০টি রাজ্যে বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে, সব জায়গা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। এর ভিত্তিতে এখন আর বাড়তি কোনো আসনের দাবি করছে না দলটি। গেরুয়া শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, প্রাথমিক লক্ষণ আদৌ বিজেপির পক্ষে স্বস্তির নয়।

এ বিষয়ে দলের এক নেতার ব্যাখ্যা, ‘বেশির ভাগ রাজ্যে গত লোকসভার থেকে কম ভোট পড়েছে। গত ভোটে মনমোহন সিং সরকারকে সরিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় আনার একটি তাগিদ ছিল জনতার মধ্যে। মোদি-ঝড় ছিল গোটা দেশে। কিন্তু এবারে তেমন কোনো ঝড় কোথাও দেখা যাচ্ছে না। মোদিকে পরাস্ত করতে হবে, এমন ভাবনাও নেই। কিন্তু দেশজুড়ে মোদির পক্ষে জোরালো হাওয়া না থাকায় স্থানীয় বিষয়গুলো বড় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জাতপাতের অঙ্কও বড় ফ্যাক্টর।’

ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই বুথকে শক্ত করতে আক্রমণাত্মক ছিলেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ। আরএসএসও মাঠে নেমে কাজ করেছে। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের গতিপ্রকৃতি দেখে বিজেপি শিবিরে অনেকেই মনে করছেন, ভোটারদের বুথ পর্যন্ত নিয়ে যেতেও সর্বত্র সক্ষম হচ্ছে না বিজেপি ও সঙ্ঘের কর্মীরা। কিছুদিন আগে ঠিক এ পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচনে।

‘বিজেপি ইনসাইডার’ বলে একটি টুইটার হ্যান্ডেল রয়েছে, যেটি সাধারণত বিজেপির অন্দরের খবর দেয় বলে দিল্লি রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাদের অনুমান অনেক সময় মিলেও যায়। গতকাল সকালে এ টুইটার থেকেই একটি টুইট করা হয়। যেখানে বলা হয়, দলের সাম্প্রতিকতম অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, গোটা দেশে বিজেপি ১৫০-১৬০টি আসনে নেমে আসবে। দলের সবচেয়ে বেশি লোকসান হবে উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে।

কংগ্রেস ঠিক এ ভবিষ্যদ্বাণীটিই অনেক দিন ধরে করে আসছে। তাদের মতে, গত লোকসভা ভোটে বিজেপির একার জোরে পাওয়া ২৮২টি আসন থেকে এক ধাক্কায় শ খানেক কমে গেলে এনডিএর শরিকদের নিয়েও সরকার গড়তে পারবেন না নরেন্দ্র মোদি। কোনোমতে সরকার গড়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছতে পারলেও মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে না এনডিএ শরিকরাই। তবে কংগ্রেস মনে করছে, বিজেপির সংখ্যা আরো কমবে। আর সরকার গড়বে বিরোধীরা মিলেই।

বিজেপি মানছে, বিশেষ করে প্রথম দফার ভোটে মায়াবতী-অখিলেশদের জোট অনেকটাই বাজি মেরেছে। অতীতে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে মেরুকরণ কাজ করত, এবারে সেটিও করছে না। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য