kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

দুই দিনে দুই ‘সরকারপ্রধান’ উত্খাত

সুদানের রাজপথ ছাড়ছে না বিক্ষোভকারীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুদানের রাজপথ ছাড়ছে না বিক্ষোভকারীরা

সুদানের রাজধানী খার্তুমের রাস্তায় জনতার উল্লাস। শুক্রবারের ছবি। ছবি : রয়টার্স

সুদানে আন্দোলনের মুখে দুই দিনে দুই ‘প্রেসিডেন্ট’ ক্ষমতাচ্যুত হলেন। তবে রাজপথ ছাড়েননি আন্দোলনকারীরা। অবিলম্বে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ পদত্যাগ করার পর অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদের প্রধান হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কয়েক মাস আগে আন্দোলনে নামে সুদানের মানুষ। একপর্যায়ে তাঁরা দেশটির তিন দশকের শাসক ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তোলেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বশিরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় সামরিক বাহিনী। গঠন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদ। পরিষদের প্রধান করা হয় জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফকে, যিনি বশিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া বশির এবং আউফ—দুজনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় আউফের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। তাঁরা আউফকে ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি তোলে। এ দাবির মুখে গত শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে এক ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আউফ। সেই সঙ্গে সামরিক পরিষদের প্রধান হিসেবে তিনি আল-বুরহানের নাম ঘোষণা করেন, যিনি অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিত।

আউফ পদত্যাগের ঘোষণা দিলে রাজধানী খারতুমে বিজয় মিছিল করে আন্দোলনকারীরা। সঙ্গে এও জানায় যে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। তবে সামরিক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আরো দুই বছর বাকি আছে। এর আগ পর্যন্ত তারাই ক্ষমতায় থাকতে চায়।

এদিকে ১৫ সদস্যের সামরিক পরিষদের প্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই সংবিধানের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন ইবনে আউফ। রাতে কারফিউ জারির পাশাপাশি ঘোষণা করেন রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থাও। তাঁর এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পরিষদের নতুন প্রধান আল-বুরহানের কাছে দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। কারণ অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় বল প্রয়োগ করতে পারে।

আন্দোলনকারীরা এ দাবিও তুলেছেন যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অভিযোগে ৭৫ বছর বয়সী বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সোপর্দ করা হোক। কিন্তু গত শুক্রবার সকালে সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জেনারেল ওমর জেইন আবেদিন বলেন, ‘বশিরকে আইসিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে না। তাঁর বিচার হলে সুদানেই হবে।’

যে কয়েকটি সংগঠন চলমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ‘সুদান প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন’ (এসপিএ) একটি। এক ফেসবুক বার্তায় সংগঠনটি বলেছে, বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অবশ্য ইবনে আউফের পদত্যাগের ঘটনাকে নিজেদের ‘দ্বিতীয়’ বিজয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। এক আন্দোলকারী বলেন, ‘আমরা আবার পেরেছি।’

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য