kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

মোদি ও ইমরানের লাভই বেশি হয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোদি ও ইমরানের লাভই বেশি হয়েছে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সপ্তাহ দুয়েক ধরে যে উত্তেজনা চলছে, তা এখন কমতির দিকে। কিন্তু এই এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, কট্টর জাতীয়তাবাদী হিসেবে মোদির যে প্রশংসাপত্র ছিল, তা এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘নবায়ন’ হয়ে গেল। বিশেষ করে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এ প্রশংসাপত্র তাঁর ব্যাপক কাজে দেবে।

অন্যদিকে ভারতের পাইলটকে ছেড়ে দিয়ে ইমরান খান নিজেকে একজন ‘শান্তিবাদী’ নেতা হিসেবে অনেকটাই প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। ইমরানকে যেন শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়—এমন একটি আবেদনে গত সাত মাসে স্বাক্ষর করেছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

কাশ্মীর ১৯৪৭ সাল থেকে ভৌগোলিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত। উভয় দেশ কাশ্মীরকে নিজেদের দখলে নিতে এ পর্যন্ত তিন তিনবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। গত শতাব্দীর আশির দশকে কাশ্মীরে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর ভারতীয় বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশির ভাগই বেসামরিক।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আত্মঘাতী হামলায় ভারতের ৪৬ জোয়ান নিহত হয়। হামলাটি চালায় পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’। ওই হামলার ১২ দিন পর জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে পাকিস্তানের সীমানায় ঢুকে বিমান হামলা চালায় ভারত। এর মধ্যে অন্তত একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাশাপাশি পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা।

এ অবস্থায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে যায়। কিন্তু ইমরান খান আচমকা ঘোষণা করেন যে শান্তির বার্তা হিসেবে তিনি অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করবেন। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইমরানের এ সিদ্ধান্তের জয়গান চলতে থাকে। দেশটির ‘দ্য নিউজ’ শিরোনাম করে, ‘বিরল আন্তরিকতা’।

ইমরান সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের কলামিস্ট গুল বুখারি বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে ইমরান যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে এটি ছিল প্রথম সঠিক সিদ্ধান্ত।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোশাররফ জাইদি বলেন, ‘গত কয়েক দিন মোদিকে একজন পুচকে যুদ্ধবাজ নেতা মনে হয়েছে। অন্যদিকে ইমরানের আচরণ ছিল রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই।’

অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মোদির জনপ্রিয়তাও খানিকটা বেড়েছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এটা তাঁর জন্য ইতিবাচক ভূমিকাই রাখবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে হয়তো মোদি ভারতীয়দের খুব একটা খুশি করতে পারেননি। কিন্তু পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্যে যেসব ‘কড়া’ ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে অনেকেই সন্তুষ্ট।

মোদি সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। কিন্তু তাঁর মুখেও মোদির প্রশংসা শোনা গেছে। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সীমানায় গিয়ে মোদি বিমান হামলা চালিয়েছেন। এটা পাকিস্তানের জন্য খুবই অস্বস্তিকর।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক তাবলিন সিং লিখেছেন, ‘কাশ্মীরের আত্মঘাতী হামলার প্রতিশোধ ভারত না নিলে আমি সত্যিই লজ্জাবোধ করতাম।’

ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইশান্ত দেশমুখ মনে করেন, ‘এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির অন্তত ৫ শতাংশ ভোট বাড়বে।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য