kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

মাহবুবুল হক শাকিলের 'মন খারাপের গাড়ি’র মোড়ক উন্মোচন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাহবুবুল হক শাকিলের 'মন খারাপের গাড়ি’র মোড়ক উন্মোচন

নিজেকে কবি না বললেও মাহবুবুল হক শাকিলের ভাবনাগুলো কবিতা হয়ে উঠেছে। এসব ভাবনা রূপান্তর হয়েছে কবিতায়। চিন্তা-চেতনা ও বোধের গভীরতায় তিনি পরিপূর্ণ এক কবি।
মাহবুবুল হক শাকিলের কবিতা পড়ে এভাবেই মূল্যায়ন কবিতা বোদ্ধাদের। শনিবার বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মাতেন শাকিলের কবিতা বন্দনায়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা সাহিত্যিকরা তার কবিতার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন।
ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দু’একটি ব্যতিক্রম থাকলেও থাকতে পারে; কিন্তু এ বইয়ের কবিতাগুলোর সবই খুব ব্যক্তিগত অনুভূতির কবিতা। কবি নিজের সঙ্গে কথা বলেছেন, তার প্রেম যেমন ব্যক্তিগত তার প্রকৃতিও তেমন ব্যক্তিগত।
তিনি বলেন, সে চারপাশে যা দেখছে এটাকে নিজের করে নিয়েই প্রকাশ করেছে। শাকিলের কবিতা কোন পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলা মুশকিল, তবে এতে বোঝা যায় যে অনুভুতির তীব্রতাই এখন পর্যন্ত তার কবিতার প্রধান।
সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, আমি যতটুকু পড়েছি অভিভূত হয়েছি। শাকিল তার কাব্যে জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তার কবিতার অনেক জায়গায় মনে হয়েছে জীবনানন্দ দাশের মতো প্রকৃতি প্রেমের অংশ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শাকিল বলেছেন, তিনি নিজের কথা বলেন। কিন্তু এর সঙ্গে আমরাও কথা বলছি। আমার মনে হচ্ছে, শাকিল আমাদের কথা বলছেন। শাকিলের কবিতায় প্রেম ও অপ্রেমের দ্বন্দ্ব রয়েছে। যাতে শেষ পর্যন্ত প্রেম জয়যুক্ত হয়েছে।
কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, এ বইয়ের ভূমিকা লেখার দায়িত্ব আমার ওপর এসে পড়েছিল, ভূমিকা লিখে অনেক আনন্দ পেয়েছি। কিছু কিছু মূল্যায়ন করার চেষ্টাও করেছি। আপনারা গ্রহণ নাও করতে পারেন। কারণ আমি একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, শাকিলের মন খারাপের গাড়ির যাত্রা শুরু হয়েছে। আমি আশা করবো এ যাত্রা আমৃত্যু চলবে। যাত্রা তখনই শেষ হবে যখন শাকিল নিজে থামবেন। কিন্তু একজন কবি কখনও থামেন না। তিনিও থামবেন না।
নিজের অনুভূতি ব্যক্তকালে মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, একজন কবি বলতে যা বোঝায়, আমি তা কোনোদিনই ছিলাম না; এখনও নেই। কবিতার ব্যাকরণ, প্রকরণ, কাব্যরীতি কোনোকিছুই আমি জানি না। আমি নিজের সঙ্গে নিজে যে কথা বলি, তাই এক সময় কাগজে লিখতাম। পরে ফেলে রাখতাম। এই টুকরো কাগজগুলোকে এক করলে আমি আমার যাপিত সময়কে মনে করতাম। অতিক্রম করা সময়কে ধরার চেষ্টায় কবিতাগুলোকে বই আকারে প্রকাশ করেছি।
তিনি বলেন, আমি জানি না, আমার এ কথোপকথন সবার ভালো লাগবে কি না। আমি শুধু নিজের কথা বলেছি।
কবি বইটি উৎসর্গ করেছেন দগ্ধ সময়কে। উৎসর্গে কবি লিখেছেন ‘দগ্ধ সময়কে/ যাকে ধরতে চেয়েছিলাম/ আমারই রক্তে-কষ্টে কলমে’। ১০২ পৃষ্ঠার এ বইয়ে মোট ৯২টি কবিতা রয়েছে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বইটির মূল্য ২০০ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা