গাজীপুরে কারখানায় চোরাই বাইপাস লাইন ব্যবহার করে গ্যাস চুরির ঘটনায় একটি কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভিজিল্যান্স টিম। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং কারখানায় এ অভিযান শুরু হয়। তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শাহীদুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।
তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কারখানাটির বৈধ সংযোগের পাশাপাশি একটি গোপন বাইপাস লাইনের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শাহীদুর রহমান জানান, সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং তিতাসের একজন বৈধ গ্রাহক হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা অনুমোদনবহির্ভূত একটি সংযোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ সংযোগটি শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিতাসের দাবি কারখানাটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। তারা এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে মিটারবহির্ভূত আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে পুরো কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতো। এর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সেই হিসাবে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযান শেষে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি কারখানাটিতে কিলিং ক্যাপিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিতাসের কর্মকর্তারা।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
অভিযানে তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শাহীদুর রহমান, ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আলী নওরোজ রাহাত, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার, মনি শংকর রায়, আতাউর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (জোবিও শ্রীপুর) শাকিল আহমেদ, সহকারী ব্যবস্থাপক (জোবিও শ্রীপুর) মোয়াজ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






