বিভিন্ন নাগরিক সমাজের মতবিরোধের মধ্যে দিয়ে কুমিল্লা নগর ভবন স্থাপন নিয়ে সিটি করপোরেশনের মতবিনিময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) অতীন্দ্র মোহন রায় সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নগর ভবন নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের তাদের অটল অবস্থান তুলে ধরেন। তবে নগরবাসীর বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।
সূত্র মতে, কুমিল্লা পৌরসভার প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় শ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভার শুরুতে তদন্ত কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে আবেদন করেছেন। অপরদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নগরের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট ধর্মপুর এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। দুই পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সরেজমিন তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। আমি তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আপনাদের প্রত্যেকের মতামত শুনব, লিপিবদ্ধ করব এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করব।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া মতামতে বক্তারা বলেন, ‘১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর যে স্থানে কুমিল্লা পৌরভবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক স্থান থেকেই নাগরিক সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই নতুন নগর ভবনও একই স্থানে নির্মাণ করা উচিত।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁঞাসহ সিটি কপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ।
বর্তমান স্থানে নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, আবুল হাসনাত বাবুল, মাসুক আলতাফ চৌধুরী, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত আলী বকুল, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রায়হান রহমান হেলেন প্রমুখ।
অন্যদিকে ছোট ধর্মপুর এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দেন সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইন।
এদিকে সংসদ সদস্যের আবেদনের কারণে নতুন নগর ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দরপত্র কার্যক্রম, টেন্ডার সিডিউল বিক্রি ও জমা গ্রহণ আপাতত স্থগিত রয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়।