• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মৌলভীবাজারে প্রস্তুতি

রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মারধর, দুই মহুরী গ্রেপ্তার

রংপুর অফিস
রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মারধর, দুই মহুরী গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

রংপুর আদালত চত্বরে মহুরীদের বিরোধ সমঝোতা করতে গিয়ে মারধরে শিকার হয়েছেন আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ দুই আইনজীবী। এ ঘটনায় দুই মহুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রংপুর মহানগরীর আদালত চত্বরে এ ঘটনা হয়। 

গ্রেপ্তার মহুরীরা হলেন, নগরীর নিউ আদর্শপাড়ার মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে মো. আতিয়ার রহমান (৬৪) এবং একই এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে জুবাদুর রহমান জাবেদ (২৯)। তারা বাবা-ছেলে। 

ভুক্তভোগী রংপুর বারের প্রবীণ আইনজীবী হারুন অর রশিদ ও শাহেদ কামাল ইবনে খতিব। এদিকে ওই ঘটনায় আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা করেছেন।

আরো পড়ুন
নারায়ণগঞ্জে ট্রাকচাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে ট্রাকচাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার মৃত্যু

 

রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব জানান, তাকেসহ এক প্রবীণ আইনজীবীকে যেভাবে মারধর ও হেনস্তা করা হয়েছে। তার উপযুক্ত বিচার হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মামলা করেছি। 

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদির বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আইনজীবী সমিতির এক নেতা হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। আমরা তাকে আটক করে থানায় এনেছি। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

তেঁতুলিয়া নদীতে পরে যাওয়া লঞ্চের ক্যান্টিন বয়ের মরদেহ উদ্ধার

ভোলা প্রতিনিধি
তেঁতুলিয়া নদীতে পরে যাওয়া লঞ্চের ক্যান্টিন বয়ের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ভোলার লালমোহন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে শাহাদাত হোসেন (২৭) নামের লঞ্চের এক ক্যান্টিন বয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর ঘাট সংলগ্ন নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত শাহাদাত চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মাথাভাঙা নেছামদি গ্রামের মো. ডালিমের ছেলে। তিনি ঢাকা-চরমোন্তাজ রুটে চলাচলকারী এমভি রেডসন-৫ লঞ্চের ক্যান্টিন বয় ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে নদীতে জেলেরা একটি মরদেহ ভাসতে দেখে সেটি উদ্ধার করে নাজিরপুর ঘাটে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নেয়। পরবর্তীতে নৌপুলিশের সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

মৃতের পরিবার সূত্র জানায়, গত ৩ জুন তেঁতুলিয়া নদীর নাজিরপুর এলাকায় লঞ্চ চলাচলের সময় শাহাদাত নদীতে পড়ে যান। এরপর তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা মো. ডালিম এলাকায় এসে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে খোঁজ চালান, তবে ব্যর্থ হন।

মঙ্গলবার স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা এসে তার ব্যবহৃত পোশাক দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরিবার জানিয়েছে, শাহাদাত আগে থেকেই মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে। নৌপুলিশ ও স্বজনরা এলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাঙামাটিতে বেড়াতে গিয়ে হ্রদে ডুবে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের

রাঙামাটি সংবাদদাতা
রাঙামাটিতে বেড়াতে গিয়ে হ্রদে ডুবে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাঙামাটি বেড়াতে এসে কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ইনতিশার হাসনাত (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বালুচরের পাশের হ্রদের পানিতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন হাসনাত। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

ইনতিশার হাসনাত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার ডিএইচএসের বাসিন্দা বেলাল হোসেনের ছেলে।

বোট চালক তরুণ চাকমা জানিয়েছেন, তারা গতকাল সোমবার আসার কথা ছিল, কিন্তু একজন ফ্রেন্ড অসুস্থ থাকায় আজকে এসেছে। ফোনে আমি বোট নিয়ে রাজবাড়ি ঘাটে থাকতে বলেছি, আমি সেখান থেকে তাদের চারজনকে (২ জন ছেলে, ২ জন মেয়ে)  নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে কাপ্তাই হ্রদে বের হই, একটি দ্বীপে কিছুক্ষণ ঘুরে তারা। সেখান থেকে আবার যাত্রা করি আমরা। পথে আমার বোটে সমস্যা হওয়ায় রিজার্ভ বাজার নাপ্পিঘাটায় গিয়ে আবার তেল নিয়ে বালুচরে যাই ৪টার দিকে। সেখানে তারা গোসল করতে পানিতে নামবে বললে, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম সাঁতার পারে কিনা, তারা বলেছে জানে।

পরে তারা বোট থেকে নেমে পানিতে যায়, আমি বোটেই ছিলাম। বালুচরে আরো বোট ও মানুষ ছিল, হঠাৎ ওদের একজন চিৎকার করে আমাকে ডাকতে থাকে, আমি দৌড়ে গিয়ে দুইজনকে পানি থেকে টেনে তুলি, কিন্তু আরেকজনকে পাইনি। পরে অনেকক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তাকে মৃত উদ্ধার করেছে।

রাঙামাটির ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক নিউটন দাশ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে গিয়ে আমাদের ডুবুরিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনে, কিন্তু ততক্ষণে তার আর প্রাণ ছিল না। তারা সম্ভবত সাঁতার জানত না। বিষয়টি দুঃখজনক। রাঙামাটি বেড়াতে আসা সব পর্যটককে সাঁতার না জানলে হ্রদে না নামার পরামর্শ দিয়েছেন এই ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

মুক্তিপণ দিয়েও ছাড়া পাননি অপহৃত ৪ জেলে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
মুক্তিপণ দিয়েও ছাড়া পাননি অপহৃত ৪ জেলে
প্রতীকী ছবি

মুক্তিপণের দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি নয় দিন আগে সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলে। ফলে অপহৃতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

অপহৃতের স্বজনরা জানান, গত  রবিবার (৩১ মে) পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে ও সুবদে খাল থেকে আরো কয়েক জেলের সঙ্গে শ্যামনগরের জেলে ইয়াছিন খাঁ, শাহাজান খাঁ, শাহাজান আলী ও শরিফুলকে তুলে নিয়ে যায় বনদস্যু নানা ভাই ওরফে ডন বাহিনীর সদস্যরা। তাদেরকে জিম্মি করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে তারা। দর-কষাকষির মাধ্যমে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় জেলেদের স্বজনের সমঝোতা হয়।

শাহাজানের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন জানান, তুলনামূলক কম মুক্তিপণ আদায় করে জিম্মি হওয়া অন্য জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা। তবে দস্যুদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তাঁর ভাই শাহাজানসহ তিনজনকে এক সপ্তাহ ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দস্যুরা তিনজনের জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার করে ও ইয়াছিনের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে তারা ইয়াছিনের জন্য এক লাখ ২০ হাজার ও অন্য তিনজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বিকাশে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরও তাদের না ছাড়ার কারণে সবার পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জিম্মি অন্য এক জেলের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে জাল ফেলে দুই সহযোগীর সঙ্গে নৌকায় ঘুমিয়ে ছিলেন। দস্যুরা নৌকার পাশে এসে তাঁর জামা ধরে ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় সহযোগীকে বাঘে ধরেছে মনে করে লাফিয়ে উঠে ছেলে হাতের পাশে থাকা দা নিয়ে দস্যুদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দস্যুরা। তারা মারধর করে বেশি মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মুক্তিপণ পরিশোধ করেন। কিন্তু নৌকা না পাওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থা এ বিষয়ে ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ। 

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মুক্তি দেওয়ার জন্য নির্ধারিত খাল চিনতে না পেরে অপহৃতের স্বজনরা সোমবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়। আজ মঙ্গলবার তারা আবারও সুন্দরবনে গেছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জুনের শুরু থেকে সুন্দরবনে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এসব জেলে আগেই মাছ শিকারে যান। ফিরে আসার আগে দস্যুদের কবলে পড়েন। বর্তমানে জলদস্যুদের নিয়ে কাজ করছে কোস্ট গার্ড। তাদের বিষয়টি জানানো হয়।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, সুন্দরবনে কোনো জেলে জিম্মি হলে সহযোগীরা সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টায় থাকেন। এ কারণে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তারপরও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।