• ই-পেপার

৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু

বগুড়ায় জুলাইযোদ্ধা মুনীর হত্যা মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বগুড়া অফিস
বগুড়ায় জুলাইযোদ্ধা মুনীর হত্যা মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত মুনির হত্যা মামলায় তালোড়া পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের রানাকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর রাতে উপজেলার তালোড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রানা তালোড়া পৌর এলাকার স্বর্গপুর মহল্লার জাফর আলী মন্ডলের ছেলে।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজমিলুর রহমান জানান, আবু তাহের রানাকে জুলাইযোদ্ধা মুনির হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
 

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মৌলভীবাজারে প্রস্তুতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মৌলভীবাজারে প্রস্তুতি
মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে ভেন্যু পরিদর্শন করছেন বিএনপি নেতারা।

আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে এসে তৃতীয় ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। মঙ্গলবার (৯ জুন) মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করেন।  

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য  মো. আব্দুল মুকিতসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপির অন্য নেতৃবৃন্দ।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরে দুপুরে রাজনগর উপজেলা চত্বর এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ঘুরে দেখা হয়।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। সেই লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভেন্যু নির্বাচন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তুতি কার্যক্রম আরো জোরদার হবে।

রংপুর

ডিম-সবজি সস্তা, চিনি-আলু চড়া

চাল-ডাল, মাছ-মাংস অপরিবর্তিত অন্য নিত্যপণ্যের মূল্য ওঠানামা

নজরুল ইসলাম রাজু, রংপুর
ডিম-সবজি সস্তা, চিনি-আলু চড়া
রংপুর নগরীর সিটি বাজারের একটি দোকানে। মঙ্গলবার দুপুরে তোলা। কালের কণ্ঠ

রংপুর নগরীর বাজারগুলোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পোলট্রি মুরগির ডিম ও বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। তবে বেড়েছে চিনি ও আলুর দাম। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকা। ফলে হালিপ্রতি দুই টাকা থেকে চার টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর বাজার কিছুটা ওঠানামা থাকলেও ডিমের দামে বর্তমানে স্বস্তি ফিরেছে।

আর অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডাল, মাছ-মাংসসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের মূল্য। তবে খোলা চিনি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিকেজি খোলা চিনি গত সপ্তাহের ১০০-১০৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে দামে এই পরিবর্তন এসেছে।

মুরগির বাজারে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০-১৭০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩২০-৩৩০ টাকা, হাইব্রিড জাত ২৮০-৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০-১১০০ টাকা কেজি দরে স্থিতিশীল রয়েছে।

মুরগি বিক্রেতা একরামুল ইসলাম বলেন, ‘মুরগির দাম কয়েকদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদের পর কিছুটা কমেছিল, এখন আবার আগের অবস্থায় এসেছে। বিক্রি মোটামুটি স্বাভাবিক।’

সবজি বাজারে দামের ওঠানামা বেশি দেখা গেছে। টমেটো ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা, গাঁজর ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকা, সজনে ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু সবজির দাম কমেছে। যেমন কাঁকরোল ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকায় নেমে এসেছে। পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি আদা ১৮০-২০০ টাকা থেকে কমে ১৬০-১৮০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা বাদল মিয়া বলেন, ‘কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু বেড়েছে। সরবরাহ আর চাহিদার ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।’

অন্যদিকে আলুর বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কার্ডিনাল আলু ১৬-১৮ টাকা থেকে বেড়ে ১৮-২০ টাকা, সাদা আলু ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা, শিল আলু ৪০-৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ধনেপাতার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতিকেজি ১৩০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে শাক-সবজির দাম ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকার মধ্যেই স্থিতিশীল রয়েছে। চাল, ডাল, আটা-ময়দা, মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও আগের মতোই রয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। বাজারে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারে,সে জন্য নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট।’

বুড়িচংয়ে রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় জনদুর্ভোগ, তদন্তের নির্দেশ দিলেন ইউএনও

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচংয়ে রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় জনদুর্ভোগ, তদন্তের নির্দেশ দিলেন ইউএনও
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত একটি রাস্তার ইটের সলিং তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুড়িচং পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে প্রায় তিন বছর আগে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তার ওপর ইটের সলিং বসানো হলে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করে আসছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে বসবাসকারী কাসেম মিয়া, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও ছেলে শাকিল দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়ক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে পথচারীদের চলাচলে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তারা রাস্তার ইটের সলিং তুলে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে সড়কটি ব্যবহারে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

এ ঘটনায় একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে মো. শাহিন মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা শুধু রাস্তার ইটই তুলে ফেলেননি, বরং ওই পথে চলাচলকারী মানুষদেরও বাধা দিয়ে আসছেন।

অভিযোগে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে রাস্তা উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’