• ই-পেপার

লালপুর

উদ্বোধনের চার দিন আগেই কালভার্টে ফাটল

  • ফাটল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক 
  • আগামীকাল উদ্বোধনের কথা
  • দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

দাউদকান্দিতে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দাউদকান্দিতে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুর রহমান (৫০), বিটেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নবীর হোসেন (৩৮) এবং জিংলাতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য আসিফ ভূইয়া (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের রামনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় ৯ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনের নামে মামলা করা হয়। মামলার পর দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারীর নির্দেশনায় পুলিশের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সদস্য হিসেবে সংগঠনের কার্যক্রমকে সমর্থন ও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আবদুল বারী জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের আসামিদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীতে স্থানীয়দের ধাওয়ায় পিস্তল ফেলে পালালেন যুবক

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে স্থানীয়দের ধাওয়ায় পিস্তল ফেলে পালালেন যুবক
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি ফেলে পালিয়ে গেছেন এক অস্ত্রধারী যুবক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেতুয়াবাগ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, দুপুরে বেতুয়াবাগ বাজার এলাকায় স্থানীয় দুই দলের তরুণদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়রা তুহিন নামের এক যুবককে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে পিস্তলটি ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তিনি।

পরে খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুহিন ওই অস্ত্র প্রদর্শন করে স্থানীয় জাহাঙ্গীর ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হারুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে একই ইউনিয়নের বসন্তবাগ এলাকায় গতকাল সোমবার সকালে পুলিশের অভিযানে তিনটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ এক যুবককে আটক করা হয়।

ময়মনসিংহের ২ উপজেলায় এক রাতে ৯ গরু চুরি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ২ উপজেলায় এক রাতে ৯ গরু চুরি
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইলে এক রাতেই ৯ গরু চুরির ঘটনা ঘটে। 

সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামে সোমবার রাতে আব্দুল খালেক (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৪৮) দুই ভাইয়ের পাশপাশি গোয়ালঘর থেকে তালা কেটে ৬টি গরু চুরি হয়। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান পরিবারের সদস্যরা। ফজরের আজানের পর আব্দুল খালেক গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন দরজার তালা খোলা। ভেতরে ঢুকে গরু না দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে দেখেন, তার গোয়ালঘরের তিনটি গরুই নেই। একই সময় পাশের গোয়ালঘরে গিয়ে আব্দুল মালেকও দেখতে পান তার তিনটি গরুও চুরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকদের দাবি, চুরি যাওয়া গরুর মধ্যে আব্দুল খালেকের দুটি ষাঁড় ও একটি গাভি ছিল, যার আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা। অপরদিকে আব্দুল মালেকের একটি গাভি ও দুটি গরুর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। মালেকের গাভিটি কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল।

এদিকে একই রাতে নান্দাইল পৌরসভার পাঁছপাড়া সরকারি মৎস্য খামারের পাশে হাদিস মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়েছে। 

হাদিস মিয়া জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার গভীর রাতে ঘুমানোর আগে গরুগুলি দেখতে গিয়ে দেখেন গোয়ালঘরের দরজার তালা কাটা। সেখানে একটি বাছুরসহ ফ্রিজিয়ান ক্রস গাভি, দুটি গর্ভবতী জার্সী গাভি ও ফ্রিজিয়ান গাভি নাই। এই গরুগুলোর মূল্য হবে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল থানার ওসি রবিউল আজম ও আজহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে গরু উদ্ধার ও চোর শনাক্তে কাজ করা হবে।

ঈশ্বরদীতে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগ বিএনপির নেত্রীর বিরুদ্ধে

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ঈশ্বরদীতে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগ বিএনপির নেত্রীর বিরুদ্ধে
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমিসহ দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে শহরের রেলগেটস্থ একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সংবাদ সম্মেলন করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আনার কলি ও তাঁর স্বজনরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আনার কলি অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি ২০২৩ সালে শহরের রেলগেট এলাকায় বৈধ দলিল মূলে আরএস রেকর্ডীয় মালিক সাহাব উদ্দিন মন্ডল দিং এর নিকট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। সেই জমির নাম খারিজ, খাজনা প্রদান করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। হঠাৎ করে ৫ আগষ্টের পর বিএনপির পৌর মহিলা দলের নেত্রী রোকেয়া সুলতানা কিছু মহিলা ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে করে এসে দোকান দখলের চেষ্টা করেন। দখলচেষ্টার বাধা দেওয়ার পর থেকে বিগত এক বছরে দোকানের প্রায় ২৭ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে মহিলানেত্রী রোকেয়া সুলতানা।

তিনি আরো বলেন, ‘জমি ও চুরির বিষয়ে থানা ও উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত থেকে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা থাকার আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতা বলে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছেন। এখন আমাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করছেন। আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে রোকেয়া সুলতানা তাদেরকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে মিথ্যাচার করছেন।’

শিক্ষিকা আনার কলি আরো বলেন, ‘আদালত থেকে জমির মালিকানার দাবি করার কাগজ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা কোনো কাগজই দেখাতে পারেন না। এমনকি রোকেয়া সুলতানা গোপনে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে এক তরফা ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি আমরা জানার পর সেই ডিগ্রির বিরুদ্ধে আদালতে ছানি মামলা চলমান রয়েছে। তার পরও অবৈধভাবে রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ক্রয়কৃত বৈধ জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

এই ব্যাপারে ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা জানান, তাঁর মৃত স্বামী শাহান মন্ডলের ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সময় হাবিবুর রহমান কর্নেল নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে জাল কাগজ করে জমিটি ক্রয় করেন। সেই কাগজ বলেই পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনের নিকট ক্রয় বিক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু জমির বৈধ মালিক রোকেয়া সুলতানা দাবি করে জানান, জমি দখল নিতে উচ্ছেদ মামলা করা হবে। আদালত থেকে তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান। তবে চুরির যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেন বিএনপির মহিলা দলের এই সভানেত্রী।