• ই-পেপার

রাজবাড়ী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অনিন্দিতা গুহ মারা গেছেন

বুড়িচংয়ে রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় জনদুর্ভোগ, তদন্তের নির্দেশ দিলেন ইউএনও

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচংয়ে রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় জনদুর্ভোগ, তদন্তের নির্দেশ দিলেন ইউএনও
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত একটি রাস্তার ইটের সলিং তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুড়িচং পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে প্রায় তিন বছর আগে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তার ওপর ইটের সলিং বসানো হলে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করে আসছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে বসবাসকারী কাসেম মিয়া, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও ছেলে শাকিল দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়ক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে পথচারীদের চলাচলে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তারা রাস্তার ইটের সলিং তুলে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে সড়কটি ব্যবহারে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

এ ঘটনায় একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে মো. শাহিন মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা শুধু রাস্তার ইটই তুলে ফেলেননি, বরং ওই পথে চলাচলকারী মানুষদেরও বাধা দিয়ে আসছেন।

অভিযোগে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে রাস্তা উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দাউদকান্দিতে আ. লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দাউদকান্দিতে আ. লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুর রহমান (৫০), বিটেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নবীর হোসেন (৩৮) এবং জিংলাতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য আসিফ ভূঁইয়া (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের রামনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় ৯ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনের নামে মামলা করা হয়। মামলার পর দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারীর নির্দেশনায় পুলিশের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সদস্য হিসেবে সংগঠনের কার্যক্রমকে সমর্থন ও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আবদুল বারী জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের আসামিদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীতে স্থানীয়দের ধাওয়ায় পিস্তল ফেলে পালালেন যুবক

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে স্থানীয়দের ধাওয়ায় পিস্তল ফেলে পালালেন যুবক
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি ফেলে পালিয়ে গেছেন এক অস্ত্রধারী যুবক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেতুয়াবাগ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, দুপুরে বেতুয়াবাগ বাজার এলাকায় স্থানীয় দুই দলের তরুণদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়রা তুহিন নামের এক যুবককে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে পিস্তলটি ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তিনি।

পরে খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুহিন ওই অস্ত্র প্রদর্শন করে স্থানীয় জাহাঙ্গীর ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হারুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে একই ইউনিয়নের বসন্তবাগ এলাকায় গতকাল সোমবার সকালে পুলিশের অভিযানে তিনটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ এক যুবককে আটক করা হয়।

ময়মনসিংহের ২ উপজেলায় এক রাতে ৯ গরু চুরি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ২ উপজেলায় এক রাতে ৯ গরু চুরি
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইলে এক রাতেই ৯ গরু চুরির ঘটনা ঘটে। 

সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামে সোমবার রাতে আব্দুল খালেক (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৪৮) দুই ভাইয়ের পাশপাশি গোয়ালঘর থেকে তালা কেটে ৬টি গরু চুরি হয়। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান পরিবারের সদস্যরা। ফজরের আজানের পর আব্দুল খালেক গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন দরজার তালা খোলা। ভেতরে ঢুকে গরু না দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে দেখেন, তার গোয়ালঘরের তিনটি গরুই নেই। একই সময় পাশের গোয়ালঘরে গিয়ে আব্দুল মালেকও দেখতে পান তার তিনটি গরুও চুরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকদের দাবি, চুরি যাওয়া গরুর মধ্যে আব্দুল খালেকের দুটি ষাঁড় ও একটি গাভি ছিল, যার আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা। অপরদিকে আব্দুল মালেকের একটি গাভি ও দুটি গরুর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। মালেকের গাভিটি কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল।

এদিকে একই রাতে নান্দাইল পৌরসভার পাঁছপাড়া সরকারি মৎস্য খামারের পাশে হাদিস মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়েছে। 

হাদিস মিয়া জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার গভীর রাতে ঘুমানোর আগে গরুগুলি দেখতে গিয়ে দেখেন গোয়ালঘরের দরজার তালা কাটা। সেখানে একটি বাছুরসহ ফ্রিজিয়ান ক্রস গাভি, দুটি গর্ভবতী জার্সী গাভি ও ফ্রিজিয়ান গাভি নাই। এই গরুগুলোর মূল্য হবে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল থানার ওসি রবিউল আজম ও আজহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে গরু উদ্ধার ও চোর শনাক্তে কাজ করা হবে।