• ই-পেপার

নাটোরে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ঈশ্বরদীতে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগ বিএনপির নেত্রীর বিরুদ্ধে

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ঈশ্বরদীতে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগ বিএনপির নেত্রীর বিরুদ্ধে
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমিসহ দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে শহরের রেলগেটস্থ একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সংবাদ সম্মেলন করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আনার কলি ও তাঁর স্বজনরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আনার কলি অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি ২০২৩ সালে শহরের রেলগেট এলাকায় বৈধ দলিল মূলে আরএস রেকর্ডীয় মালিক সাহাব উদ্দিন মন্ডল দিং এর নিকট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। সেই জমির নাম খারিজ, খাজনা প্রদান করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। হঠাৎ করে ৫ আগষ্টের পর বিএনপির পৌর মহিলা দলের নেত্রী রোকেয়া সুলতানা কিছু মহিলা ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে করে এসে দোকান দখলের চেষ্টা করেন। দখলচেষ্টার বাধা দেওয়ার পর থেকে বিগত এক বছরে দোকানের প্রায় ২৭ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে মহিলানেত্রী রোকেয়া সুলতানা।

তিনি আরো বলেন, ‘জমি ও চুরির বিষয়ে থানা ও উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত থেকে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা থাকার আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতা বলে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছেন। এখন আমাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করছেন। আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে রোকেয়া সুলতানা তাদেরকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে মিথ্যাচার করছেন।’

শিক্ষিকা আনার কলি আরো বলেন, ‘আদালত থেকে জমির মালিকানার দাবি করার কাগজ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা কোনো কাগজই দেখাতে পারেন না। এমনকি রোকেয়া সুলতানা গোপনে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে এক তরফা ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি আমরা জানার পর সেই ডিগ্রির বিরুদ্ধে আদালতে ছানি মামলা চলমান রয়েছে। তার পরও অবৈধভাবে রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ক্রয়কৃত বৈধ জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

এই ব্যাপারে ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা জানান, তাঁর মৃত স্বামী শাহান মন্ডলের ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সময় হাবিবুর রহমান কর্নেল নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে জাল কাগজ করে জমিটি ক্রয় করেন। সেই কাগজ বলেই পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনের নিকট ক্রয় বিক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু জমির বৈধ মালিক রোকেয়া সুলতানা দাবি করে জানান, জমি দখল নিতে উচ্ছেদ মামলা করা হবে। আদালত থেকে তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান। তবে চুরির যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেন বিএনপির মহিলা দলের এই সভানেত্রী।

সিলেটে বিশেষ অভিযানে ১৮৪ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে বিশেষ অভিযানে ১৮৪ জন গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) পৃথক বিশেষ অভিযানে ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৮টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম।

এর আগে পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টায় সিলেট মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, সিলেট মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা, তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য, জুয়াড়ি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামি, চোর এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা রয়েছেন।

অভিযানকালে ১৫ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজাও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৫৬টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

ছাতক

ধ্বংসের মুখে ১৭৬ বছরের পুরনো ইংলিশ টিলা

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ দাবি স্থানীয়দের

মো. আবু বকর সিদ্দীক চৌধুরী, ছাতক (সুনামগঞ্জ)
ধ্বংসের মুখে ১৭৬ বছরের পুরনো ইংলিশ টিলা
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ১৭৬ বছরের পুরনো ইংলিশ টিলা। সম্প্রতি তোলা। কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ছাতকের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে রয়েছে  ইংলিশ টিলা। সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাব এবং দখলদারত্বের কারণে ১৭৬ বছর আগে নির্মিত স্থাপনাটি এখন ধ্বংসের মুখে। এটি সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। 

সম্প্রতি ছাতক পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই একর ৬০ শতক খাস জমিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ইংলিশ টিলা। স্মৃতিস্তম্ভটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল। কয়েকটি অংশ ক্ষয়ে পুরো কাঠামোটি একদিকে হেলে রয়েছে। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু এই টিলার চূড়ায় রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ ফুট উচ্চতার একটি পাকা স্মৃতিস্তম্ভ, যা স্থানীয়ভাবে সাহেব মিনার নামে পরিচিত। 

স্থানীয়রা জানায়, এক ইংরেজ নারী তার মৃত ব্যবসায়ী স্বামীর স্মরণে স্মারকটি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটির এই ভগ্ন দশা। একটি চক্র  টিলা থেকে মাটি কেটে নিলেও দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়রা আরো জানায়, টিলার তিন দিকে বসবাস করছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। টিলা কেটেই তারা বসবাসের স্থাপনা নির্মাণ করে। টিলায় ধস দেখা দেওয়ায় তারাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রবল বৃষ্টি, ঝড় কিংবা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্মৃতিস্তম্ভটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে গত এক বছরে একাধিকবার ছাতক উপজেলাকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

ইতিহাস চর্চা করে এমন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ১৭৯৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড থেকে জর্জ ইংলিশ নামের এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সপরিবারে ছাতকে আসেন। তার হাত ধরেই এ অঞ্চলে চুন ও চুনাপাথর ব্যবসা শুরু হয়। পরে এই শিল্পকে কেন্দ্র করেই ছাতক ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায়  পরিণত হয়।

দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ১৮৫০ সালে ৭৬ বছর বয়সে ছাতকেই মারা যান জর্জ ইংলিশ। তার স্ত্রী হেসরি স্বামীর স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে ইংলিশ টিলার ওপর তাকে (জর্জ ইংলিশ) সমাহিত করেন।  একই বছর সমাধির পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন চারকোণা আকৃতির স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন তিনি। হেসরি পরে ইংল্যান্ডে ফিরে গেলেও স্থানটি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত হয়। স্থানীয়ভাবে স্মৃতিস্তম্ভটিকে সাহেব মিনারও বলা হয়।

বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন, দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝখানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং এটি একদিকে হেলে পড়েছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। আমরা দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা খায়ের উদ্দীন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টিলার আশপাশে বিভিন্ন সময় ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছে। টিলা কাটার কারণে তারাও এখন ঝুঁকির মুখে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন, ছাতকে ১৭৬ বছরের পুরনো ইংলিশ টিলাটি ঐতিহ্যের স্মারক। টিলাটিকে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে  আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মার চরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
পদ্মার চরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে স্পিডবোটের ভেতর থেকে মো. আজজিুল হক ঝড়ু নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লালপুর থানাধীন চর জাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর কিনারায় একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও রাজশাহীর বাঘা উপজলোর সীমান্তর্বতী চর এলাকায় বালুমহল নিয়ে বেলাল ও কাকন গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে স্পিডবোটে লালপুর থানার চর জাজিরা এলাকায় এনে ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত ব্যক্তি মো. আজজিুল হক ঝড়ু (৩৫)। তিনি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা আব্দুল শেখ ও মাতা হাসিনা বেগম।

পুলিশ জানায়, যুবকের বাঁ চোখের ওপরের অংশে গুলির আঘাত লেগে তা মাথার ওপর দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। স্পিডবোটের ভেতর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে। এ সময় লালপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ ও তদন্ত র্কমর্কতা ঘটনাস্থলে উপস্থতি ছিলেন। 

পুলিশ আরো জানায়, নিহত যুবক চারঘাট এলাকায় কাকন নামের এক ব্যক্তির বালুর পয়েন্টে কাজ করতেন। বালুমহাল নিয়ে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমকিভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

লালপুর থানার অফসিার ইনর্চাজ (ওসি) শফকিুল ইসলাম পলাশ জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে অপরাধ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।