পাবনার ঈশ্বরদীতে জমিসহ দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে শহরের রেলগেটস্থ একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সংবাদ সম্মেলন করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আনার কলি ও তাঁর স্বজনরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আনার কলি অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি ২০২৩ সালে শহরের রেলগেট এলাকায় বৈধ দলিল মূলে আরএস রেকর্ডীয় মালিক সাহাব উদ্দিন মন্ডল দিং এর নিকট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। সেই জমির নাম খারিজ, খাজনা প্রদান করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। হঠাৎ করে ৫ আগষ্টের পর বিএনপির পৌর মহিলা দলের নেত্রী রোকেয়া সুলতানা কিছু মহিলা ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে করে এসে দোকান দখলের চেষ্টা করেন। দখলচেষ্টার বাধা দেওয়ার পর থেকে বিগত এক বছরে দোকানের প্রায় ২৭ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে মহিলানেত্রী রোকেয়া সুলতানা।
তিনি আরো বলেন, ‘জমি ও চুরির বিষয়ে থানা ও উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত থেকে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা থাকার আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতা বলে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছেন। এখন আমাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করছেন। আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে রোকেয়া সুলতানা তাদেরকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে মিথ্যাচার করছেন।’
শিক্ষিকা আনার কলি আরো বলেন, ‘আদালত থেকে জমির মালিকানার দাবি করার কাগজ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা কোনো কাগজই দেখাতে পারেন না। এমনকি রোকেয়া সুলতানা গোপনে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে এক তরফা ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি আমরা জানার পর সেই ডিগ্রির বিরুদ্ধে আদালতে ছানি মামলা চলমান রয়েছে। তার পরও অবৈধভাবে রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ক্রয়কৃত বৈধ জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এই ব্যাপারে ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা জানান, তাঁর মৃত স্বামী শাহান মন্ডলের ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সময় হাবিবুর রহমান কর্নেল নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে জাল কাগজ করে জমিটি ক্রয় করেন। সেই কাগজ বলেই পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনের নিকট ক্রয় বিক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু জমির বৈধ মালিক রোকেয়া সুলতানা দাবি করে জানান, জমি দখল নিতে উচ্ছেদ মামলা করা হবে। আদালত থেকে তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান। তবে চুরির যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেন বিএনপির মহিলা দলের এই সভানেত্রী।




