বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরে প্রাচীন নানা লোককথা ও ঐতিহ্য আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মাজার চত্বরে থাকা একটি বন্ধ গুহা, চারটি শালিক পাখির কবর এবং সেখানে সংরক্ষিত দুটি পাথর নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিশ্বাস ও গল্প প্রচলিত রয়েছে।
মাজারের খাদেম সানাওয়ার বলেন, অন্তত সাড়ে ৬০০ বছর আগে হজরত খানজাহান আলী (রহ.) এ অঞ্চলে আগমন করেন। সে সময় তার সঙ্গে বহু অনুসারী ছিলেন, যাদের কবর বর্তমানে মাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, তার সঙ্গে সবসময় চারটি শালিক পাখিও থাকত। মাজার এলাকায় ওই শালিক পাখিগুলোর কবর রয়েছে।
সানাওয়ার আরো বলেন, খানজাহান আলীর মাজারের উত্তর পাশে একটি গুহা রয়েছে, যা বহু বছর আগে তৎকালীন খাদেমরা বন্ধ করে দেন। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) ওই গুহায় বসে ইবাদত, বন্দেগি ও ধ্যান করতেন। বর্তমানে গুহার প্রবেশমুখে দুটি পাথর রাখা আছে। অনেক ভক্ত ও দর্শনার্থী সেখানে তেল ও দুধ নিবেদন করে মনের আশা পূরণের প্রার্থনা করেন। শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষও পাথর দুটিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তেল ঢেলে থাকেন।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, মাজারের গুহাটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অনেক বছর আগে মাজারের খাদেমরা গুহাটির মুখ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে গুহাটির প্রবেশমুখে দুটি পাথর সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গুহাটি গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হলে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর জীবন, কর্ম এবং ওই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বাগেরহাট খানজাহান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরে প্রচলিত লোককথা ও বিশ্বাস শুধু ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়, বরং বাগেরহাটের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লোককথা অনুযায়ী, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) ওই গুহায় ধ্যান ও ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এমনকি তার মরদেহও সেখানে সমাহিত রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। এ কারণেই তৎকালীন মাজারের খাদেমরা গুহার মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।





