• ই-পেপার

চন্দনাইশে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

যশোর

আওয়ামী লীগ নেতা বলে সাংবাদিককে জেলে পাঠাল পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
আওয়ামী লীগ নেতা বলে সাংবাদিককে জেলে পাঠাল পুলিশ

যশোরের বেনাপোল থেকে মোহা. আসাদুজ্জামানকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে কারাগারে পাঠানোর যে আবেদন পুলিশ করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, তিনি শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ।

আইনজীবী ও পরিবার বলছে, আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি এক সময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের প্রদর্শক ছিলেন; এখন শুধু সাংবাদিকতা করেন।

এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে কলেজ সরকারি হওয়ায় পরে তিনি আর ওই পদে ছিলেন না। সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও কখনো ছিলেন না।

তবে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নামও আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, নামের মিল থাকায় রাজনৈতিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের পরিবর্তে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে পুলিশ ২০২৫ সালে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

সোমবার বিকেলে তাকে যশোরের আদালতে তোলা হলে অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আছাদুল ইসলাম জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন।

রবিবার রাতে শার্শা উপজেলার জামতলার বাড়ি থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শার্শা থানার এএসআই অহিদ জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

আসাদুজ্জামানের বোন শিল্পী বেগম বলেন, রাত ২টার দিকে পুলিশ দেয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তারা দরজা খুলতে বাধ্য করে।

আসাদুজ্জামানকে আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি এবং সদুত্তরও দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তার বোন।

তিনি বলেন, ‘কোনো মামলা ছাড়া কেন ধরে নিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য প্রতিবাদ করেছিল আমার ভাগনে শাহরিয়ার সাদাব তরঙ্গ। তখন পুলিশ মারধর করে তাকেও আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশ বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও নিয়ে যায়।’

এদিকে আসাদুজ্জামানকে আটকের খবরে শার্শা ও বেনাপোলের সাংবাদিকরা সকালে থানার সামনে অবস্থান নেন। তারা তার মুক্তির দাবি জানাতে থাকেন।

শিল্পী বেগম বলেন, আসাদুজ্জামান এক সময় কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি উপজেলা কমিটিতে এক সময় শিক্ষবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন।

‘২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ার পর তাদের রাজনীতি করার আর কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি করেননি, নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তার অনেক আগেই ওই কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করেন। যশোর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি হলফনামাও তার আছে।’

শিল্পী বেগম বলেন, পুলিশকে তারা সেসব কাগজপত্র দেখিয়েছেন। কিন্তু তারপরও পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসাদুজ্জামান আসাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

যে মামলায় আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর শার্শা থানায় সেটি দায়ের করেন শার্শা ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়নাল হক।

সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়ক ও কালভার্টের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে।

মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। ওই সাতজনের মধ্যে আসাদুজ্জামান নামে কেউ নেই।

সোমবার রাতে ঢাকা থেকে মামলার বাদী আয়নাল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেসব তিনি নিজে দেখেননি। তাকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি ও বিএনপি নেতারা ফেইসবুকে ঘটনার কিছু ভিডিও দেখান এবং মামলা করতে বলেন। সে অনুযায়ী তিনি মামলা করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও সাবেক কলেজশিক্ষক আসাদুজ্জামানকে তিনি চেনেন না। তবে শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদকে তিনি চেনেন এবং তিনিই মামলার ওইসব ঘটনার মূল ব্যক্তি। তবে ৫ অগাস্টের পর থেকে তিনি এলাকায় নেই।

শার্শা থানায় সাংবাদিকদের অবস্থানের মধ্যেই সোমবার দুপুরের দিকে পুলিশের গাড়িতে করে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে যশোরের আদালতে পাঠানো হয়। বেলা ৩টার দিকে তাকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। ২০২৫ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেল ৪টার দিকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

আসাদুজ্জামানের আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন পাপ্পু এ সময় জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর থানার এসআই চিরঞ্জিত মণ্ডল তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে আসাদুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ তাকে যশোর জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।

আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, ‘সাংবাদিক আসাদুজ্জামান চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমরা আগামী বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী দিনে তার জামিন আবেদনের সঙ্গে রাজনীতি থেকে তার অব্যাহতি নেওয়ার পত্রও আদালতে দাখিল করব।’

এদিকে একই মামলায় ও একই রাতে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তাকেও আদালতে পাঠানো হয়। সে সময় তাদের হাতে একই সঙ্গে হাতকড়া পরানো ছিল, যা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার সাংবাদিকরা। বেনাপোল বন্দর প্রেস ক্লাব, শার্শা প্রেস ক্লাব, প্রেস ক্লাব বেনাপোল, সীমান্ত প্রেস ক্লাব এবং উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করে।

বেনাপোল বন্দর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার আজিজুল হক বলেন, ‘সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া—এ দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমাজের নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম তুলে ধরতে সাংবাদিকরা যে হাতে কলম ধরেন, সেই হাতে হাতকড়া পরানোর ঘটনা সাংবাদিক সমাজের জন্য যেমন দুঃখজনক, তেমনি রাষ্ট্রের জন্যও প্রশ্নের জন্ম দেয়।’

টাঙ্গাইল

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের সখিপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৫টার দিকে সখিপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। 

দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখিপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন। 

তিনি জানান, ভোর ৫টার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকে মুরগিবাহী পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মুরগিবাহী পিকআপে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো উদ্ধার করে সখীপুর থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
 

খালি ঘরে ঝুলছিল ১৬ বছরের কিশোরের মরদেহ

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)  প্রতিনিধি
খালি ঘরে ঝুলছিল ১৬ বছরের কিশোরের মরদেহ
স্বজনদের আহাজারি

মায়ের করা মামলায় বাবা কারাগারে, মা অবস্থান করছিলেন নানা বাড়িতে। আর একাই বসতঘরে থাকত ১৬ বছরের কিশোর তুহিন হাওলাদার। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সেই ঘর থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুহিনের বাবা মনির হাওলাদার ও মা শেফালী বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শেফালী বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে মনির হাওলাদারকে কারাগারে যেতে হয়। ওই মামলায় তিনি এর আগে প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করেন। সর্বশেষ কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে আবারও কারাগারে যান। বর্তমানে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

অন্যদিকে তুহিনের মা দক্ষিণ চরমোন্তাজে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে তুহিন বাড়িতে একাই থাকত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবারটির তিন সন্তানের মধ্যে তুহিন ছিল বড়। তার দুই ছোট বোনও মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে ছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তুহিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কেউ দরজা খোলা দেখেছেন, আবার কেউ বলছেন দরজা বন্ধ ছিল।

তুহিনের মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে কিছুই বলেনি। তার সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। আমার মেয়ে আমাকে বলছিল, ভাইয়ের মোবাইল বন্ধ।’ তিনি আরো বলেন, ‘কে জানি তার গাড়ি আটকেছিল। এর সপ্তাহখানেক আগে বাজারের এক ঘরে রাতে ঢুকেছিল। মেম্বারে (ইউপি সদস্য) সালিসিও করছে।’

তবে কিশোরটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বেলাল হোসেন বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তুহিনের  বাবা ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল না। মায়ের মামলায় বাবা কারাগারে আছে।’

হিলিতে ১৪ বছর পালিয়ে থেকেও রক্ষা হলো না সাজাপ্রাপ্ত আসামির

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
হিলিতে ১৪ বছর পালিয়ে থেকেও রক্ষা হলো না সাজাপ্রাপ্ত আসামির

দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দীর্ঘ ১৪ বছর পলাতক থাকার পরও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা হলো না যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি মো. জামাল হোসেনের (৬০) পরে সুকৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাকিমপুর পৌর শহরের মধ্য বাসুদেবপুর এলাকার মৃত রফিক হোসেনের ছেলে। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে বিচারকার্য শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল হোসেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল এলাকায় তার বোনের বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। পরবর্তীতে পুলিশি সুকৌশলে তাকে হাকিমপুর পৌর শহরের মধ্যে বাসুদেবপুর (চুড়িপট্টি) এলাকায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরো জানান, পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় থানার আলিহাট ইউনিয়নের আলিহাট গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে নাঈম হাসান (২৫) এবং পৌর শহরের ধরন্দা (ফকিরপাড়া) মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন ওরফে কালুকে (২৪) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ তিনজনকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।