<p style="text-align: justify;">নাম-বয়স জানা নেই কারো। তবে গাছটির জন্ম নিয়ে রয়েছে  কিংবদন্তী। ওই কিংবদন্তীর কথা জেনে বহু বছর ধরে মানুষ মনের ইচ্ছা পূরণ করতে গাছের গোড়ায় মানত দিত। গাছটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভৌতিক গল্পও ছড়ানো ছিল। </p> <p style="text-align: justify;">তবে এখন মানত দেওয়ার দিন শেষ। ভৈৗতিক গল্পও আর তেমন শোনা যায় না। ছেলে থেকে বুড়ো, গৃহস্থ থেকে পথচারী- ক্লান্ত হলে অচিন গাছের নিবিড় ছায়ায় বসে শরীর জুড়িয়ে নেয়।</p> <p style="text-align: justify;">গাছটির অবস্থান ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বাতিয়া গ্রামে। উপজেলার ভূষাগঞ্জ বাজার থেকে মাঝিয়ালি বাজারে যাওয়ার পাকা সড়কে। গাছের ছায়াতলে গ্রামের ঈদগা। এ গাছের নাম কেউ জানে না। মানুষ এক সময় মনের ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আশায় গাছে  মানত দিত। এ কারণেই হয়তো গাছটিকে ‘মন পবনের গাছ’ নামে ডাকা হতো। বয়স্করা এখনও নামটি জানলেও কিশোর বয়সীরা এ নাম তেমন জানে না। প্রায়ই আশপাশের মানুষ গাছটিকে দেখতে যায় বাতিয়া গ্রামে।</p> <p style="text-align: justify;">অচিন গাছের গোড়া চার ভাগে অনেকটা জায়গা নিয়ে বিস্তৃত। ওপর থেকে গাছের পাতা অনেকটা ছাতার মতো ছড়িয়ে রয়েছে গোড়ার চেয়ে বহুগুণ জায়গা নিয়ে। পাতা অনেকটা বটের পাতার মতো দেখালেও বটের পাতার চেয়ে কিছুটা লম্বা। গোড়ার শেকড় দেখলেই বোঝা যায় গাছটির বয়স যথেষ্ট।</p> <p style="text-align: justify;">গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বাতিয়া গ্রামে গিয়ে গাছটি নিয়ে কথা হয় গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে।</p> <p style="text-align: justify;">গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, গাছটির বয়স সম্পর্কে কারো স্পষ্ট ধারণা নেই। বর্তমানে গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের নাম ইয়াকুব আলী। তাকে খুঁজে বের করে তার কাছে এ গাছ সর্ম্পকে জানাতে চান এ প্রতিবেদক। ইয়াকুব আলী বলেন, আমার দাদা ও বাবা ১০০ বছরের বেশি বেঁচে ছিলেন। আমার বয়সও এখন ১০০। আমার তিন ভাই মারা গেছেন। তারা কেউ এ গাছের বয়স সর্ম্পকে কিছু বলতে পারেননি। ধারণা করা হয় গাছটির বয়স ৪০০ বছরের কম হবে না। </p> <p style="text-align: justify;">ইয়াকুব আলী আরো বলেন, এক সময় মানুষ মনে করতো মনের ইচ্ছা পূরণে এ গাছের অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এ গাছের কাছে মানত করতো। গাছের গোড়ায় মানতের ছোট মুরগির বাচ্চা ছেড়ে দিতো। গাছের গোড়ায় বিভিন্ন গর্তে বেজিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী থাকলেও মানতের মুরগি খেত না বলে মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ছিল।</p> <p style="text-align: justify;">জানা যায়, এ গাছের জন্ম নিয়ে রয়েছে কিংবদন্তি। কিংবদন্তিটা হচ্ছে, ভারতের কামরূপ-কামাক্ষায় এক রাতে প্রচণ্ড ঝড় হয়। সেই  রাতে প্রচণ্ড বাতাসে আস্ত গাছ উড়ে আসে তারাকান্দার বাতিয়া গ্রামে। গ্রামের মানুষ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পায়  বিশাল গাছটি। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতে শুরু করে গাছটি দেখতে। এরপর গাছের জন্মের এমন অলৌকিক গল্প শুনে মানুষ গাছের কাছে ইচ্ছা পূরণের মানত দিতে শুরু করে।</p> <p style="text-align: justify;">বৃহস্পতিবার গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে কিশোর বয়সী কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা অবশ্য এসব গল্প একেবারেই বিশ্বাস করে না। কিশোররা জানায়, সকাল-বিকাল কয়েকবার তারা এ গাছের নিচে বসে আড্ডা দেয়। কখনও অলৌকিক কিছু অনুভব করেনি। জামাল মিয়া নামের একজন যুবক বলেন, ‘গ্রামের মুরুব্বিদের কাছে এসব অলৌকিক কথা শুনেছি। কিন্তু আমি প্রায়ই গাছের গোড়ায় বসে থাকি। অলৌকিক কিছু কখনও মনে হয়নি।’</p> <p style="text-align: justify;">তারাকান্দায় বসবাস করা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম তরুণ কবি কামাল মুহম্মদ বলেন, আমিও ছোটবেলায় ‘মন পবনের গাছ’র গল্প শুনেছি। গাছের জন্ম বিষয়ে কিংবদন্তির কথাও শুনেছি। এগুলো এক ধরনের কুসংস্কার ছিল। তবে এখন মানুষ এসব বিশ্বাস করে না। প্রাচীন এ গাছটির নাম ও বয়স না জানলেও মানুষ এখন আর এ গাছ নিয়ে কোনো ভৌতিক গল্প ছড়ায় না। জেনেছি উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে এটা বট জাতীয় বৃক্ষ। এর আয়ু সর্বোচ্চ ৬০০ বছর পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশে এ গাছ খুব কম থাকলেও ভারত ও চীনে এ জাতীয় গাছ দেখা যায়।</p>