• ই-পেপার

‘বিয়ের নেশায়’ ব্যাংক কর্মকর্তা আসিফ কারাগারে

জমি লিখে নিয়ে বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

থানায় লিখিত অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
জমি লিখে নিয়ে বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রতারণা করে নিজের নামে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার পরও বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার (৯০)। তিনি উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের তালদশী গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ছেলের নাম মো. মহির উদ্দীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জব্বার বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শারিরীক ও মানসিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছেন। এই সুযোগে প্রায় এক বছর আগে মহির উদ্দীন তার বাবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে কৌশলে পাকুন্দিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান । সেখানে নিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে তালদশি মৌজার ৫৫৫ ও ৫৫৬ নম্বর দাগ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মহির উদ্দীনের কাছে ওই জমি ফেরত চাওয়ায় বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন তিনি।

বড় ছেলে মো. গিয়াস উদ্দীন জানান, বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্যদের জানানোর পর এ নিয়ে একাধিক সালিশ-দরবার হয়। কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। জমি ফেরত চাওয়ায় এবং সালিশ দরবার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মহির উদ্দীন আমাকে ও বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে বাবা বাদী হয়ে মহির উদ্দীনের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত মহির উদ্দীন বলেন, ‘আমি জমি প্রতারণা করে লিখে নিইনি। বাবা স্বেচ্ছায় আমাকে লিখে দিয়েছেন। বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য নয়।’

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

পটিয়ায় অপহৃত শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় অপহৃত শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় পাঁচ বছরের শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল পূর্বপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সাইফুদ্দীন (৩৯), শাহানুর আক্তার (৩৫) ও নিহা (১৮)। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহান ও ওয়াসিফা নামের আরো দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয় জায়হান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পটিয়া থানায় জিডি করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিরকুটের হাতের লেখা, স্থানীয় তথ্য এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছিল শিশুটিকে। তবে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মৃত জায়হানের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রতিবেশীরাই পরিবারের সঙ্গে শিশু জায়হানকে খোঁজার নামে নাটক করছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেয়।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযানে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১
সংগৃহীত ছবি

সাভার-আশুলিয়ায় পৃথক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুলপরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা এবং হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং আশুলিয়া থানা পুলিশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের দিকনির্দেশনায় আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আশুলিয়ার জামগড়া ভূইয়াপাড়া, তাজপুর, কাইচাবাড়ি, ভাদাইল ইপিজেড মডেল টাউন, পূর্ব নরসিংহপুর, চারাবাগ এবং জামগড়া চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ১০ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আশুলিয়া থানায় পৃথক সাতটি মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি কিংবা অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া থানা পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।’

এদিকে, সাভারে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোছা. বিউটি আক্তার (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর বেদেপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সিরাজ মিয়ার মেয়ে এবং শাহিনের স্ত্রী।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যপাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

অসুস্থ মাকে দেখতে ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন খান (৩৮)। তবে মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাও আর হয়নি। বাড়ি পৌঁছানোর আগেই দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেটে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি পাবলিক টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। 

নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদের মা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাকে দেখতে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পাশের একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাইরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম জানান, ফরিদ উদ্দীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়িতে আসার পথে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটের ভেতরে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘বিয়ের নেশায়’ ব্যাংক কর্মকর্তা আসিফ কারাগারে | কালের কণ্ঠ