kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ

টয়লেটের ছাদ থেকে বের করে ছাত্রলীগ সম্পাদককে পেটাল কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া    

২২ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টয়লেটের ছাদ থেকে বের করে ছাত্রলীগ সম্পাদককে পেটাল কর্মীরা

আধিপত্য বিস্তার ও কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। এতে হামলায় আহত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কে তার খালার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

বিজ্ঞাপন

দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, কয়েক মাস ধরে কমিটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, কুষ্টিয়া শহর, সরকারি কলেজসহ পাঁচ ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছে। এর আগেও হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই সপ্তাহ আগেও শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই দফায় তিনি কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ খাওয়ার জন্য পিটিআই রোডে তার খালায় বাসায় যান। খাওয়াদাওয়া শেষে তিনি ওই বাসায় বসে গল্প করছিলেন। এ সময় শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক হাসিব কোরাইশি, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অন্তর, ছাত্রলীগ নেতা অভি, সজলসহ তাদের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন কর্মী ওই বাসায় গিয়ে চ্যালেঞ্জের খোঁজ করতে থাকেন। ভয়ে চ্যালেঞ্জ বাসার টয়লেটের ফলস ছাদে আশ্রয় নেন। প্রতিপক্ষের কর্মীরা সেখানে উঠে টেনেহিঁচড়ে তাকে নিচে নামিয়ে এনে পেটাতে পেটাতে সামনের সড়কে নিয়ে আসেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের বাসার সামনে নিয়ে এসে পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও তার ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।

রক্তাক্ত হাফিজ চ্যালেঞ্জ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটি গঠন নিয়ে মূলত বিরোধ তৈরি হয়েছে। আমি ঢাকায় ছিলাম। কয়েক দিন আগে কুষ্টিয়া এসেছি। দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ অজয় সুরেকার অফিসে দেখা করতে যাই। সেখান থেকে বের হলে কয়েকজন যুবক আমাকে রেকি করতে থাকে। সেখান থেকে পিটিআই রোডে আমার খালার বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে আক্রমণ করে জেলা ও শহর ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। আমার কী দোষ? আমি জামায়াত-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, এটা কি আমার দোষ? তারা আমাকে অনেক মেরেছে। দল ক্ষমতায় থাকতে এই প্রতিদান পেলাম। আমি আমার নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ ভাই ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচার দিয়েছি। ’

চ্যালেঞ্জ অভিযোগ করে বলেন, ‘কমিটি নিয়ে নোংরামি চলছে, তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার ওপর হামলা করে। তারা আমাকে জবাই করতে চায়। ওরা বলে তোর কোনো বাপ তোকে বাঁচাতে পারবে না। ’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত জানি না। ’

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর বলেন, ‘এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা, গুটি কয়েক নেতা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রকশ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। কারা দলের মধ্যে ঢুকে এ সমস্ত কাজ করছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, তার কপালের কয়েক জায়গায় কেটে গেছে। মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন। শরীরে অসংখ্য জায়গায় মারধরের চিহ্ন আছে।  



সাতদিনের সেরা