kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সিনেমাকেও হার মানিয়েছে আমান পাগলার জীবনের গল্প

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০৫:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিনেমাকেও হার মানিয়েছে আমান পাগলার জীবনের গল্প

স্বজনদের সাথে আমান পাগলা

ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমান উল্লাহ নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক প্রায় চার বছর পর ফিরে পেলেন তার নিজ পরিবারকে। দীর্ঘদিন পর ভাইকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন বড় ভাই মজিবর রহমান সরদার।

জানাগেছে, প্রায় চার বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া কুসুডাঙ্গা এলাকার মৃত মনির উদ্দিন সরদারের ছেলে আমান উল্লাহ সরদারের (২৮) স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যায়। পরে অজানা পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসেন কুড়িগ্রামের চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে।

বিজ্ঞাপন

স্হানীয়রা জানান, বছর চারেক আগে হঠাৎ একদিন  মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে দেখতে পান তারা। দুধকুমার নদের শহিদুলের খেয়াঘাট এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় আমান উল্লাহকে উদ্ধার করে তোজাম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তার বাড়িতে নিয়ে যান। সেই বাড়িতেই প্রায় মাসখানেক অবস্থান করে আমান উল্লাহ। সে সময় থেকে এলাকার মানুষ তাকে আমানুল্লাহ পাগলা নামে ডাকে।

পরে একই এলাকার মিজানুর রহমানের বাড়িতে দীর্ঘ দুই বছর অবস্থান করে। এরপর তিনি একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে চান মিয়ার বাড়িতে ওঠে। সেখানে প্রায় ৬মাস অবস্থান করেন। এভাবে চলতে থাকে আমান পাগলার জীবন।

হঠাৎ একদিন রজব আলীর ভ্যানে ওঠে উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পান আমান উল্লাহ। রজব আলী প্রাথমিক চিকিৎসা করায় তাকে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় মানুষজন তাকে চিকিৎসা করান। পরে ওই এলাকার চন্দ্র ভান নামের এক মহিলা তাকে সেবা যত্ন করে সুস্থ করেন। দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর সিনেমার গল্পের মত তিনি স্মৃতিশক্তি ফিরে পেতে থাকে। ধীরে ধীরে তার বাবা-মাসহ ভাইদের নাম বলতে পারে। এক পর্যায় তার নিজ এলাকা, থানা ও জেলার নামও বলতে পারে আমান। তার দেওয়া ঠিকানার সূত্র ধরে ইসলামপুর এলাকার মানিকউদ্দিন বেপারী ভূরুঙ্গামারী থানায় বিষয়টি জানায়।  

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানায় বিষয়টি অবগত করেন। পরে কলোরোয়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় আমান উল্লাহর পরিবারের ঠিকানা খুঁজে পায় পুলিশ। বিষয়টি জেনে তার ভাই মজিবর রহমান সরদার পুলিশের নিকট থেকে আমানুল্লার অবস্হান জেনে সোমবার (০৩ অক্টোবর) ভূরুঙ্গামারীতে আসেন। মঙ্গলবার (০৫ অক্টোবর ) বিকেলে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন স্থানীয়দের সামনে আমান উল্লাহকে তার বড় ভাই মজিবর সরদারের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় আমান উল্লাহর বড় ভাই মজিবর সরদার বলেন, প্রায় চার বছর আগে আমার ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। হঠাৎ একদিন আমার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে হারিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পরও তার কোন সন্ধান পাইনি। কয়েকদিন আগে কলারোয়া থানা থেকে ফোন দিয়ে আমান উল্লাহ সম্পর্কে জানায় তাকে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে আমি এখানে এসে আমার ভাইয়ের সন্ধান পাই। ছোট ভাইকে এতোদিন পরে ফিরে পাবো এবং স্বচক্ষে দেখতে পাবো এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।   

ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ভারসাম্যহীন যুবকের বিষয়ে কলারোয়া থানায় যোগাযোগ করে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। তার বড় দুই ভাই এসেছেন। বিভিন্ন ভাবে যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আমান উল্লাহকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা