kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বরিশালে মধ্যরাতেও মেলেনি ইলিশ

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশল    

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০৩:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরিশালে মধ্যরাতেও মেলেনি ইলিশ

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর রাত ১২ টার পর থেকে) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে আগের দিন ইলিশের দাম কম থাকায় বেশি পরিমাণে ইলিশ কিনে থাকেন নগরীর উচ্চ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বরিশালে পাইকারি মৎস্য কেন্দ্রে ইলিশের আমদানি কম থাকায় হাজারো মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরে ইলিশের আকার ও মান ভেদে স্বাভাবিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

 

গত কয়েক বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বাজারে ইলিশ না আসায় বড় বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজির অভিযোগ করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তারা বলছেন ইলিশ আহরণের উপযুক্ত সময় আমাবশ্য ও পূর্ণিমার জোয়ার একটিও এই সময়ে না থাকায় জেলেদের জালে ইলিশ ধরা দিচ্ছে না। তাই বাজারেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না।   

সরেজমিনে, গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্য রাত পর্যন্ত বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ সংগ্রহের জন্য গভীর রাত পযর্ন্ত মাছ বাজারগুলোতে উপচে পড়া নারী পুরুষদের ভিড়। কিন্তু বাজারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না থাকা এবং স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ ক্রেতাই খালি হাতে বাসায় ফিরে গেছেন।  
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পযর্ন্ত ইলিশের দাম আকার ও মান ভেদে এক থেকে দুইশত টাকা কম দামের বিক্রি হলেও সন্ধ্যা গড়াতে তা কেজি প্রতি দুই থেকে তিন শ টাকা বৃদ্ধি পায়। আর রাত ১২টা পর হতেই বাজারগুলোতে ইলিশ সংকট দেখা দেয়। রাত দেড় পরে প্রায় ইলিশ শূণ্য হয়ে পরে পাইকারি পোর্ট রোড বাজার। এ সময়ে আকার ও মান ভেদে কেজি প্রতি ইলিশের দাম গিয়ে দাড়ায় সাড়ে ছয়শত থেকে ২০০০টাকা পযর্ন্ত। যা সকাল থেকে বিকেল পযর্ন্ত সাড়ে চারশত টাকা থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত তিন বছর ধরে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, মজুদ, বহনের উপর নিষেধাজ্ঞার আগের দিন রাতে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।  

নগরীর হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা মাহামুদ মিনার জানান, গত বছর এবং তার আগের বছর যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল এ বছরও একই অবস্থা দেখা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বাভাবিক দাম থাকলেও রাত ১০টার পর থেকে ইলিশের দাম চড়া হয়ে যায়। রাত দেড়টার দিকে ইলিশের পাইকারি বাজার পোর্ট রোডে এসে দেখি প্রায় ইলিশ শূণ্য। অন্য দিকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বেশির ভাগ ক্রেতারা ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে বাসায় ফিরেছে।  

কাটপট্রি এলাকার আমীন রাসেল বলেন, ২০১৯ সাল পযর্ন্ত মা-ইলিশ রক্ষায় ইলিশ আহরণ, মজুদ, বহন এবং বিক্রির উপরে নিষেধ আরোপের আগের দিন রাতে পোর্ট রোড এলাকার খালে প্রায় অর্ধশত ফিসিং বোর্ড এবং কুয়াকাটা, কলাপাড়া, পাথরঘটা থেকে ট্রাক ভর্তি ইলিশ আসতো। কিন্তু গত তিন বছর থেকে তা আসছে না। এই না আসার পেছনে কারণ কী? এর পেছনে অবশ্যই বড় বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে। তা না হলে অবরোধের এই সময়ে এত কম আসবে কেন। বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দাবি করেন তিনি।

খুচরা ব্যবসায়ি মানিক হাওলাদার বলেন, গত তিন বছর ধরে ৬ থেকে ৭ গুণ ইলিশ বাজারে কম আসছে। তাই অবরোধ শুরু আগ মুহূর্তে ( নিষেধাজ্ঞার শুরু আগের দিন) চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়।  

বরিশাল মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল বলেন, ইলিশ অবরোধের আগের দিন বরিশালের আড়তদার ইলিশ কিনেনি। গত কয়েক বছর ধরে এই সময়ে আমাবশ্য ও পূর্ণিমার জোবার একটি না পাওয়ায় জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। ফলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশও আসছে না। তাই বেশির ভাগ মানুষ ইলিশ কিনতে পারেনি।



সাতদিনের সেরা