kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নিয়োগ দুর্নীতি প্রকাশ করায় চাকরি গেল নারী শ্রমিকের

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিয়োগ দুর্নীতি প্রকাশ করায় চাকরি গেল নারী শ্রমিকের

অভিযুক্ত সুপারভাইজার মতিউর রহমান।

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় (আরইআরএমপি-৩) ও এলসিএস প্রকল্পের আওতায় রাস্তায় মাটি কাটার কাজে নারী শ্রমিক নিয়োগ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুজন নারী শ্রমিক তাদের নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়েছেন সুপারভাইজার মতিউর রহমানকে। এ অভিযোগের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর একজনকে চাকরি থেকে বাদ ও অন্যজনের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী রহিমা বেগম জানান, কয়েক দফায় মতিউর রহমান আমার কাছ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা নিয়ে চাকরি দেন।

বিজ্ঞাপন

পরে আরো টাকা দাবি করলে তা না দেওয়া আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে অন্য নারী শ্রমিক নিয়োগ দেন। আমার অসহায়ের কথা জানার পর রেখা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক আমার জন্য সুপারিশ করলে তার বেতনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করার কথা জানান ভুক্তভোগী দুই নারী।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে (আরইআরএমপি-৩) প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলায় ১০০ নারী শ্রমিককে ৫ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৫ বছরে বেশ কয়েকজন নারীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে। অপরদিকে ৫ মে ২০২০ সালে এলসিএস প্রকল্প আরো ২৮ জন অসহায় নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শুরু থেকেই এ প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন কর্মকর্তা ছিলেন উপজেলা (কমিউনিটি অর্গানাইজার) সাঈদা বেগম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাকান্দা উপজেলার প্রকৌশলী কার্যালয়ের (কমিউনিটি অর্গানাইজার) সাঈদা বেগম ২০১৬ সাল থেকে নিজকর্মস্থলে অনুপস্থিত। প্রতিমাসে তারাকান্দা উপজেলা থেকে বেতন নিলেও অসুস্থতার জন্য তিনি ঢাকা অফিসে প্রেষণে কর্মরত। ২০১৬ সাল থেকেই অফিস-সহকারী মতিউর রহমান সাঈদা বেগমের (কমিউনিটি অর্গানাইজারের দায়িত্ব) পালন করার পর থেকে নানা ধরণের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত মতিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মোতাবেক রহিমা খাতুনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানেন।

নারী শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিন শ টাকা করে নারী শ্রমিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, অফিস খরচের জন্য এক শ টাকা করে নিই। কিভাবে এ দায়িত্ব পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন।

তারাকান্দা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাদেমুল আলম শিশির বলেন, রহিমা খাতুনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। মতিউর রহমান আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। দুই নারী শ্রমিককে চাকরিতে রাখতে আমি চেষ্টা করব।

তারাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী জোবায়েদ হোসেন বলেন, তিনি এ উপজেলায় নতুন এসেছেন। নারী শ্রমিকরা যে অভিযোগ দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তাদের চাকরি ফিরে পাওয়া ও বেতনের বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজাবে রহমত বলেন, নারী শ্রমিকের অভিযোগের বিষয়টি তিনি দেখছেন। মতিউর রহমানের বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা