kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নাটোর

ভাইরাসজনিত নাকি চর্মরোগ? নাটোরে একই রোগে আক্রান্ত ৬০ জন

নাটোর প্রতিনিধি    

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৪:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাইরাসজনিত নাকি চর্মরোগ? নাটোরে একই রোগে আক্রান্ত ৬০ জন

ছবির প্রত্যেকে একই রোগে আক্রান্ত।

নাটোরের গুরুদাসপুরে ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন একই মহল্লার প্রায় ৬০ জন। দেড় বছর ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও রোগের কোনো প্রতিকার পাননি তারা। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বুধবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের পাবনা পাড়া মহল্লায় গিয়ে দেখা এ চিত্র যায়।

বিজ্ঞাপন

 

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত রোগ। কিন্তু লক্ষণ চর্মরোগের।

জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পাবনা পাড়া মহল্লার সুলতানের স্ত্রী লিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘামাচির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে যুক্ত হয় চুলকানি। তিন দিন পর তার মেয়েরও একই লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে তারা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। কিন্তু চুলকানি আরো বেড়ে যায়। একপর্যায়ে নাটোরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেন। তাতেও কাজ হয়নি। পরে প্রতিবেশিদের শরীরেও একই উপসর্গ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে রোগটি পুরো মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ে। এখন ওই মহল্লায় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৬০ জন আক্রান্ত।  

আক্রান্ত রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘামাচির মতো লাল গুটি দেখা দিয়েছে। আক্রান্তরা প্রত্যেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেছেন কিন্তু কেউ প্রতিকার পাননি। এমনকি সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ও করতে পারেননি কেউ।

লিমা জানান, ‘দেড় বছর আগে হঠাৎ আমার শরীরে ঘামাচি হয়ে চুলকাতে শুরু করে। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাই। কিন্তু প্রতিকার পাইনি। এছাড়াও নাটোর শহরের একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাই। তিনিও বলেছেন, এটি চর্মরোগ। পরবর্তিতে চর্ম ও মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ প্রায় সাতজন ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি। এমনকি এই রোগের নামও কেউ বলতে পারেনি। ’

আক্রান্ত হাজেরা, রিমা, সুলতান, মেহেদীসহ প্রায় ১৫ জন জানান, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুলকায়। অনেক সময় আক্রান্ত স্থানে চুলকানোর কারণে রক্ত বের হয়। ফুলে লাল হয়ে যায়।  

আক্রান্ত শিশু সুয়াইবার মা জানান, আমার ছোট্ট শিশু চুলকাতে না পেরে চিৎকার করে। শিশু বিশেষজ্ঞ, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। এখনো রোগ থেকে মুক্তি পাইনি।  

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম মুঠোফনে বলেন, ‘আক্রান্ত রোগীরা কখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি। তাদেরকে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ’ 



সাতদিনের সেরা