kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কেরানীগঞ্জে হাজারো মানুষের ভরসা এক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেরানীগঞ্জে হাজারো মানুষের ভরসা এক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

কেরানীগঞ্জের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মান, জীবন হয়েছে সহজ ও সুন্দর। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। এমনই এক ব্যতিক্রমী জনপদের নাম চর আকসাইল, মিঠাপুর, মধুর চর এলাকা। ঢাকা শহরের সবচেয়ে কাছের গ্রামীণ জনপদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালাতিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা সিংহ নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো।

বিজ্ঞাপন

 

আসামদিপুর, আকসাইল, চর আকসাইল, মিঠাপুর, মধুরচরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের ভরসা এই সাঁকো। এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে প্রায় প্রতিবছরই নিজেদের অর্থায়নে সংস্কার সাঁকোটি করতে হয়। এখন এটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন  স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ হাটে-মাঠে কাজ করতে বের হওয়া মানুষ।

যে এলাকা থেকে শুরু হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের বিশ্ব জয়ের অভিযান, সে এলাকার মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখে একটি পাকা ব্রিজের।

ব্রিজ নিয়ে নানা দুর্ভোগের কথা জানান স্থানীয়রা। তারা বলেন, বছরের পর বছর গ্রামের মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। রাতে টর্চ লাইট ব্যবহার করে পা টিপে হাঁটতে হয় এই সাঁকোতে। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ’ অনেকে পড়েও গেছেন।  

নির্বাচন এলে দলীয় নেতারা পাকা ব্রিজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট শেষ হলে আর কেউ খবর নেন না।

জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়া মাদরাসার এক শিক্ষার্থী জানান, ‘সাঁকো পার হয়ে মাদরাসায় যেতে হয়। এই সাঁকো দিয়ে আমরা যেতে পারলেও অনেকে পানিতে পড়ে যান। বৃদ্ধ, শিশু, রোগী সবারই পার হতে হয় এই সাঁকো দিয়ে। কেউ কেউ সাঁকো পার না হতে পেরে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে মাঠে-হাটে-বাজারে যান। এখানে একটা ব্রিজ জরুরি দরকার। ’

মধুরচর থেকে আসা শেফালি বেগম বলেন, ‘দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আমাদের পাশের গ্রামের মানুষ পা বাড়ালে পাকা রাস্তা পায়। আর আমরা দুই নদী পার হয়ে বাজারে আসি। সরকারের কাছে আমার দাবি, দ্রুত আমাদের ব্রিজটি করে দিন। ’

কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দু-চার গ্রাম ঘুরে হাসপাতালে নিতে হয়। ততক্ষণে রোগির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ’

স্থানীয় বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি কলাতিয়া বাজারে কাজ করি। প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে আমাকে আসতে হয়। অনেক সময় পার হতে গিয়ে মানুষ পানিতে পড়ে যায়। ’

এ বিষয়ে কলাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাহের আলী বলেন, ‘আমরা ব্রিজটি পাকা করার জন্য উপজেলায় একাধিকবার আবেদন করেছি। উপজেলা চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন, এ বছরের মধ্যে এটি পাকা হয়ে যাবে। ’

উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কাজি মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে আমরা ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের তালিকা হেড অফিসে জমা দিয়েছি। তার মধ্যে এটি একটি। সব ব্যবস্থা হয়ে গেলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ ধরা হবে। ’

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ব্রিজটি এ বছরের মধ্যেই হবে। কিছুদিনের মধ্যে টেন্ডার হবে। তারপরই ব্রিজের কাজ ধরা হবে ইনশাআল্লাহ। ’ 



সাতদিনের সেরা