kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সিআইডি'র ব্রিফিং

৫ বছর ধরে নিখোঁজ, বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হলো কঙ্কাল

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি    

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫ বছর ধরে নিখোঁজ, বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হলো কঙ্কাল

সাংবাদিকদের অবহিত করছে ঝালকাঠি সিআইডি, ইনসেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার সৈয়দ খাইরুল ইসলাম যার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে

ঝালকাঠির রাজাপুরে নিখোঁজের পাঁচ বছর পর সৈয়দ খাইরুল ইসলাম (৩৭) নামে এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (৫ অক্টোবর) ঝালকাঠি সিআইডি পুলিশের একটি দল রাজাপুরের গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি গ্রাম থেকে মাটি খুঁড়ে খাইরুলের কঙ্কাল ও কিছু আলামত উদ্ধার করে।  

খাইরুল উপজেলা সদরের বাইপাস মোড় এলাকার সৈয়দ আনছার আলীর ছেলে। ২০১৭ সালের সেপ্টেস্বর মাসে উপজেলার বাইপাস মোড় থেকে খাইরুল নিখোঁজ হন।

বিজ্ঞাপন

পরে খাইরুলের ছোটভাই সৈয়দ সিরাজ রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ ঘটনার রহস‌্য উদঘাটন করল সিআইডি।  

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন সিআইডি ঝালকাঠি ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার মো. এহসানুল হক। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজাপুর বাইপাস মোড় থেকে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অপহরণ করা হয় খাইরুলকে। খাইরুলকে অপহরণ করে খুন ও লাশ গুম করা হয়েছে- এ অভিযোগ এনে রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন খাইরুলের ভাই। রাজাপুর থানার মামলা নম্বর ১৫,  তারিখ ২৪-৯-২০১৭। মামলার ধারা ৩৬৪, ৩৬৫, ৩০২, ২০১ এবং ৩৪। মামলায় আসামি করা হয় স্থানীয় সৈয়দ জেহাদুল ইসলাম (রিয়াদ), মো. কাজল, পলি বেগম ও মো. রুস্তমসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে। রাজাপুর থানা পুলিশ ফোরকান নামে একজনকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করলেও তার কাছ থেকে কোনো তথ‌্য পায়নি। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন পান।  

এদিকে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি ঝালকাঠি সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়।  
বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. বাবুল হোসেন তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে একাধিক সোর্স নিয়োগ করেন। গত সোমবার সিআইডি পুলিশ রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রাম থেকে মামলার সাক্ষী মিজান হাওলাদার মিজু (৪৫) নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বকানুদাসকাঠি গ্রামের একটি কবরস্থানের বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে খাইরুলের কঙ্কাল এবং পরনের জিন্সের প্যান্টের অংশবিশেষ ও বেল্টসহ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়।  

আটক মিজান সিআইডিকে জানান, আপন দুই ভাই সোহাগ ও মনির, ফোরকান এবং গিয়াস- এই চারজন মিলে খাইরুলকে খুন করেন। প্রথমে লাশ ফোরকানের বাড়ির পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। একমাস পর পূর্বকানুদাসকাঠি গ্রামের একটি কবরস্থানে বাঁশ ঝাড়ের নিচে পুঁতে ফেলেন তারা। দ্বিতীয়বার লাশ পুঁতে রাখার সময় মিজানুর রহমান মিজু ঘটনা দেখে ফেলেন। মিজানুর রহমান মিজু নিজের বয়সের চেয়ে বড় একজন নারীকে বিবাহ করায় তার ভায়রা ও আত্মীয়-স্বজন তাকে ভর্ৎসনা করতেন। সে কারণেই ঘটনার পাঁচ বছর পর তিনি  সিআইডির কাছে ঘটনা ফাঁস করলেন।  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. বাবুল হোসেন জানান, সিআইডির হেফাজতে থাকা মিজানুর রহমান মিজুকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে এবং উদ্ধার করা কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর যাদেরকে আসামি করা হয়েছিল তাদের কারও নাম মিজানুর রহমান মিজান বলেননি। এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ফোরকানকে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে থেকে পলাতক রয়েছেন। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের কারণে  ফোরকানের পরিকল্পনায় আসামি মনিরের বাড়িতে খাইরুলকে হত‌্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় জড়িত গিয়াস উদ্দিন দুলাল এক বছর আগে মারা গেছেন।



সাতদিনের সেরা